মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
চিকিৎসার নামে অনিয়ম! মৌলভীবাজারে দুই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান, জরিমানা ২০ হাজার
রোগীর নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথা যেসব প্রতিষ্ঠানের, সেখানেই মিলেছে নানা অনিয়মের চিত্র। মৌলভীবাজার শহরের দুটি বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ওষুধ যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করা, পোস্ট-অপারেটিভ রুমের ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং অটোক্লেভ (স্টেরিলাইজেশন) রুম অপরিচ্ছন্ন রাখার মতো বিষয় শনাক্ত করেছে প্রশাসন। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে পৃথক দুটি মামলায় মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান
পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইফ্রাহিম ইকবাল চৌধুরী । ডায়ালাইসিস সেন্টারে ওষুধ সংরক্ষণে অনিয়ম অভিযানের শুরুতে শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন নামের একটি ডায়ালাইসিস সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। পরিদর্শনকালে সেখানে ওষুধ যথাযথ নিয়মে সংরক্ষণ করা হচ্ছে না বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত ওষুধের সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অভিযানের সময়ই জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়। ডায়ালাইসিসের মতো স্পর্শকাতর চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানে ওষুধ সংরক্ষণে এমন অনিয়ম কতটা গ্রহণযোগ্য—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, ওষুধের সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে নির্ধারিত পরিবেশ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ রুমেও অনিয়ম এরপর শহরের পুরাতন হাসপাতাল রোড এলাকায় অবস্থিত আল হামরা (প্রাঃ) হাসপাতাল -এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে পরিদর্শনকালে পোস্ট-অপারেটিভ রুমের ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের পাশাপাশি অটোক্লেভ বা স্টেরিলাইজেশন রুম অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার জন্য পোস্ট-অপারেটিভ রুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার কাজে ব্যবহৃত অটোক্লেভ কক্ষের পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা রোগীর নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ ধরনের অনিয়ম শনাক্ত হওয়ায় হাসপাতালটিকে একই আইনে আরও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। জরিমানার অর্থও তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে। দুই মামলায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। দুটি মামলায় মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয় এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে। অভিযানকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ও তাঁর টিম উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয় পরিদর্শন ও যাচাইয়ে তারা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন। নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর? মৌলভীবাজারে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম নয়। এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়মিত নজরদারি ও মান নিয়ন্ত্রণ না থাকলে রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবার মান এবং স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশেষ করে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী কক্ষ, স্টেরিলাইজেশন ব্যবস্থা এবং ওষুধ সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলোকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এসব ক্ষেত্রে সামান্য অব্যবস্থাপনাও রোগীর জন্য বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই শুধু অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করাই নয়, অভিযানে যেসব অনিয়ম ধরা পড়েছে সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে কি না—পরবর্তী সময়ে তা নিশ্চিত করতে ফলোআপ পরিদর্শন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযান অব্যাহত থাকবে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে যথাযথ মান ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকলে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়ম মানার প্রবণতা বাড়বে এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের। তবে তাদের মতে, জরিমানার পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যবিধি, চিকিৎসা সরঞ্জামের মান, ওষুধ সংরক্ষণ, স্টেরিলাইজেশন ব্যবস্থা এবং রোগীসেবার সামগ্রিক পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন। কারণ, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সাধারণ ব্যবসা নয় এখানে একটি ছোট অনিয়মও একজন রোগীর জীবন ও নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

