স্টাফ রিপোর্টার
এনসিপি নেতা এহসান জাকারিয়া জেলে, মৌলভীবাজারে কিশোর গ্যাং ‘উধাও!
মৌলভীবাজার শহরে একসময় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে ছিল পুলিশের উদ্বেগ। অভিযান চালিয়ে সদস্যদের আটক করা হলেও তাঁদের কেউ কেউ পরে জামিনে বেরিয়ে আসতেন। কিন্তু জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া আটকের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে বলে দাবি করেছেন জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, এহসান জাকারিয়া আটকের পর শহরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আই
ন শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে এমন বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা। সভায় তিনি বলেন, কিছুদিন আগে মৌলভীবাজার শহরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। পুলিশ অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আটক করত। তাঁর দাবি, আটকের পর এসব কিশোরকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করতেন এহসান জাকারিয়া এবং পরে তাঁরা জামিনে বেরিয়ে আসতেন। পুলিশ কর্মকর্তার এই বক্তব্য সভায় উপস্থিতদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করে। নোবেল চাকমার দাবি, এহসান জাকারিয়াকে আটকের পর থেকেই পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। তাঁর ভাষায়, এখন মৌলভীবাজার শহরে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতের খবর প্রায় পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ একজন ব্যক্তিকে আটকের পরই যদি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কমে যায়, তাহলে এর পেছনে কারা প্রভাব বিস্তার করছিল সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তবে পুলিশের এই বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি সভায় দেওয়া একজন কর্মকর্তার পর্যবেক্ষণ ও দাবি। এহসান জাকারিয়া কিশোর গ্যাংকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন বা আটক ব্যক্তিদের জামিনে ছাড়াতে তদবির করেছেন এমন অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আদালতের নথি সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে পুলিশের বক্তব্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথি ও এহসান জাকারিয়ার বক্তব্যও যাচাই করা প্রয়োজন। সম্প্রতি দুটি মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন এনসিপির এই নেতা। এর আগে গত ২৭ আগস্ট কুলাউড়ায় এনসিপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এহসান জাকারিয়াসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনায় একটি মামলা হওয়ার কথাও সংবাদমাধ্যমে আসে। এখন জেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় পুলিশের বক্তব্যের পর আলোচনায় এসেছে আরও বড় একটি প্রশ্ন মৌলভীবাজারে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারের পেছনে কি কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল? কিশোর অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আটক হওয়ার পর কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির তদবিরে অপরাধীরা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সামাজিক কারণ, অভিভাবকদের ভূমিকা এবং তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। আইন-শৃঙ্খলা সভায় পুলিশের এই বক্তব্য তাই শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাকে ঘিরে নয়; এটি মৌলভীবাজারে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার, তাদের পেছনের সম্ভাব্য পৃষ্ঠপোষকতা এবং আইন প্রয়োগের বাস্তবতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

