মৌলভীবাজার রাজনগর প্রতিনিধি:
রাজনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান, ৫ নৌকা জব্দ; ৩ জনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মোট ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজনগর উপজেলার মোকামবাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাজনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজ ফারজানা হোসেন। অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোকামবাজার এলাকার একটি ছড়া থেকে অনুমো
দন ছাড়াই বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ছড়া থেকে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাঁচটি নৌকা জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সর্বমোট ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়েছে। অভিযানে জব্দ করা পাঁচটি নৌকা পরবর্তী সময়ে স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদী, ছড়া ও সরকারি বিভিন্ন জলাশয় থেকে অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলনের কারণে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপরও পড়ছে বিরূপ প্রভাব। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন, তীর ও আশপাশের জমিতে ভাঙনসহ নানা ধরনের পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্থান, অনুমোদিত পরিমাণ ও সরকারি বিধিবিধান মেনে চলা জরুরি। এর বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলন করা হলে তা সরকারি সম্পদের অপচয় ও পরিবেশের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি সম্পদ রক্ষা, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আইন অমান্য করে বালু উত্তোলনের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনগরে এক অভিযানে পাঁচটি নৌকা জব্দ ও তিনজনকে অর্থদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি ও কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, পরবর্তী সময়েও জব্দ করা নৌকা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে, যাতে একই স্থানে ফের অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ তৈরি না হয়।

