মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মধ্যরাতে শেরপুরে পুলিশের হানা,গাঁজাসহ আটক ৪
মৌলভীবাজারের শেরপুরে মধ্যরাতে পুলিশের অভিযানে এক কেজি গাঁজাসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শেরপুর আবাসিক এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় মাদকদ্রব্য কেনাবেচার প্রস্তুতি চলছে এমন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ২ নম্বর সাদিপুর ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের মৃত ইছাক মিয়ার ছেলে এনাম মিয়া (৫৫), পৈলনপুর ইউনিয়নের বকশীপুর গ্রামের মৃত রশীদ মিয়ার ছেলে র
াজা মিয়া (৩৩), ২ নম্বর সাদিপুর ইউনিয়নের খসরুপুর গ্রামের মৃত মইন উদ্দিনের ছেলে শাহিন মিয়া (৪২) এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১ নম্বর খলিলপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামের মৃত আমজাদ মিয়ার ছেলে হোসেন মিয়া (৩০)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশের কাছে গোপন সংবাদ আসে, শেরপুর আবাসিক এলাকার একটি স্থানে কয়েকজন ব্যক্তি মাদকদ্রব্য কেনাবেচার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খবরটি পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। পরে শেরপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে এক কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের এ অভিযানের পর শেরপুর আবাসিক এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, আবাসিক এলাকায় মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা কিংবা সরবরাহের মতো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতের বেলায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পুলিশি টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা জরুরি। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকের বিস্তার ঠেকাতে শুধু খুচরা পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; মাদকের উৎস, সরবরাহকারী এবং এর সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা। শেরপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. ওবায়দুল্লাহ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে এক কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জব্দ করা গাঁজার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে। মাদকটি কোথা থেকে এসেছে, এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং এর পেছনে কোনো সরবরাহকারী বা চক্র রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান একটি চলমান কার্যক্রম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা, পরিবহন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনসাধারণের সহযোগিতা পেলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর করা সম্ভব বলেও মনে করছে পুলিশ। এদিকে আটক চারজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি জানা যাবে। শেরপুরে মধ্যরাতের এ অভিযানে এক কেজি গাঁজাসহ চারজন আটকের ঘটনায় এখন মূল আলোচনার বিষয় জব্দ করা মাদকের উৎস কোথায় এবং এর সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর বের করতে পুলিশের তদন্ত কতটা এগোয়, সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।

