মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
ইউনাইটেড ক্লাবের উপদেষ্টা নজরুল ইসলামের সহধর্মিণীর ইন্তেকাল
মৌলভীবাজারের সামাজিক অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিত্ব ও দুর্লভপুর ইউনাইটেড ক্লাবের বর্তমান উপদেষ্টা আলহাজ্ব নজরুল ইসলামের সহধর্মিণী আর নেই। গত ২৮ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর মৃত্যুতে দুর্লভপুর গ্রামসহ আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মৃত্যুকালে মরহুমার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে যেমন নেমে এসেছে শোকের আবহ, তেমন
ি দীর্ঘদিনের পরিচিতজন ও এলাকাবাসীর মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে গভীর শূন্যতা। মরহুমা ছিলেন লন্ডনপ্রবাসী তারেক আহমদ, ইউনাইটেড ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তায়েফ আহমদ ও তামিমুল ইসলামের মমতাময়ী মা। সন্তানদের কাছে তিনি ছিলেন মমতা ও ভালোবাসার প্রতীক। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং পারিবারিক জীবনে তাঁর অবদান তাঁকে সবার কাছে আপন করে তুলেছিল। নিজ বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত শনিবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে দুর্লভপুরে নিজ বাড়িতে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজাকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই বাড়ির আশপাশে স্বজন, প্রতিবেশী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। জানাজায় দুর্লভপুর গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ ছাড়াও মৌলভীবাজার জেলা শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সামাজিক, রাজনৈতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। তাঁরা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন খালেদ চৌধুরী, উপদেষ্টা, শাযুস; জেলা বিএনপির সদস্য ফখরুল ইসলাম, জেলা আল ইসলাহ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, কনকপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য হান্নান মিয়া, ইউনাইটেড ক্লাবের আজীবন সদস্য শাহিন আহমদ, বিএনপি নেতা মতিন বক্স, কাজল মাহমুদ, যুবদল নেতা ফুয়াদ জামান, হাফেজ আহমদ মাহফুজ, ইউনাইটেড ক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম, রুমেল আহমদ, আবুল কাশেম বাবু, মুজাহিদুল ইসলাম এবং দুর্লভপুর ইউনাইটেড ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফ মান্নাসহ আরও অনেকে। শোকাহত পরিবারের পাশে স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষীরা মরহুমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হন। অনেকে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং মরহুমার জীবনের বিভিন্ন স্মৃতি স্মরণ করেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মরহুমা ছিলেন পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল, স্নেহশীল ও মমতাময়ী একজন নারী। স্বামী, সন্তান, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। দীর্ঘ পারিবারিক জীবনে তিনি পরিবারের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে সন্তানদের ভালোভাবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একজন মানুষের মৃত্যু তাঁর পরিবারের জন্য যেমন অপূরণীয় ক্ষতি, তেমনি দীর্ঘদিনের পরিচিতজনদের কাছেও তা হয়ে ওঠে এক গভীর বেদনার মুহূর্ত। মরহুমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তাঁর মৃত্যুতে স্বজনদের পাশাপাশি দুর্লভপুরের সামাজিক পরিমণ্ডলেও নেমে এসেছে শোকের আবহ। জানাজায় শ্রদ্ধা ও দোয়া জানাজা শেষে উপস্থিত মুসল্লি ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন। তাঁরা মহান আল্লাহর কাছে মরহুমার সকল গুনাহ ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দানের জন্য প্রার্থনা করেন। এ সময় শোকসন্তপ্ত স্বামী আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, প্রিয়জন হারানোর বেদনা কোনো ভাষায় পূরণ করা সম্ভব নয়। এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকা এবং তাঁদের জন্য দোয়া করাই সবার দায়িত্ব। মরহুমার মৃত্যুতে দুর্লভপুর ইউনাইটেড ক্লাবের সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের মধ্যেও শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত আলহাজ্ব নজরুল ইসলামের পরিবারের এই শোকের সময়ে ক্লাবের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সবার কাছে দোয়া চেয়েছে পরিবার পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী, ক্লাবের সদস্য এবং এলাকাবাসীর কাছে মরহুমার রুহের মাগফিরাতের জন্য বিশেষভাবে দোয়া কামনা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। প্রত্যেককেই একদিন মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাই মরহুমার জন্য দোয়া করা এবং তাঁর ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করাই এখন সবার প্রত্যাশা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মরহুমার জীবনের সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিন, তাঁর কবরকে নূরে ভরিয়ে দিন, কবরের আজাব থেকে হেফাজত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত স্বামী, সন্তান ও পরিবারের সকল সদস্যকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি, ধৈর্য ও সবর দান করুন। আমিন।

