রিয়াজ উদ্দিন
কাবুলে বিমান হামলা: হাসপাতালে আঘাতে অন্তত ৪০০ নিহত, পাকিস্তানের অস্বীকার
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তালেবান সরকার। তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, নিহত ও আহতদের অধিকাংশই ছিলেন চিকিৎসাধীন রোগী। হামলার সময় সরকারি ‘ওমিদ’ হাসপাতালে প্রায় ৩,০০০ রোগী অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে পাকিস্তান এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তারা কেবলমাত্র “সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী ঘাঁটি” লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে
ছে এবং বেসামরিক কোনো স্থাপনায় আঘাত করেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত প্রায় ৯টার দিকে হামলা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই হাসপাতালটিতে আগুন ধরে যায় এবং ভবনের বড় অংশ ধসে পড়ে। এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, “পুরো জায়গাটি আগুনে পুড়ে যাচ্ছিল, যেন কিয়ামতের দৃশ্য।” হামলার পর মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালটির শুধু পোড়া দেয়াল ও ধ্বংসস্তূপ দেখা যায়। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালান। একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, “সবকিছু পুড়ছিল, মানুষও পুড়ছিল।” আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সকল পক্ষকে উত্তেজনা কমানো এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান, বিশেষ করে হাসপাতালের মতো বেসামরিক স্থাপনা সুরক্ষার বিষয়ে। এই হামলার আগে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে সংঘর্ষ চলছিল, যেখানে উভয় পক্ষের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং পরিস্থিতিকে পাকিস্তান “খোলা যুদ্ধ” হিসেবে উল্লেখ করেছে। চীন এই সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।

