মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
শ্রীমঙ্গল শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে শ্রমিক লীগ নেতা শাহজাহান সেক্রেটারি নির্বাচিত
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ট্রাক, ট্যাংকলরি, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং-চট্ট-২৪০৩) উপজেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর সেক্রেটারি পদে শ্রমিক লীগ নেতা মো. শাহজাহান মিয়ার বিজয়কে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে ৫৬০ ভোট পেয়ে মো. নুর হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. জিনু মিয়া পেয়েছেন ৩৯০ ভোট। অন্য
দিকে সেক্রেটারি পদে ৬৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন শ্রমিক লীগ নেতা মো. শাহজাহান মিয়া। তার প্রতিদ্বন্দ্বী দুলাল মিয়া পেয়েছেন ২৪৯ ভোট। শাহজাহান মিয়ার নির্বাচন ও বিজয়কে কেন্দ্র করে শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালক ও আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সমন্বয়কারী মো. সরফরাজ আহমেদ সরফুর একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। তার স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অতীতে ইফতার মাহফিলে হামলা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শোডাউনের মতো আলোচিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শাহজাহান মিয়া কীভাবে শ্রমিক নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হলেন এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা সমর্থন রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। এ পোস্টে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী মন্তব্য করে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের মধ্যে বিএনপি নেতা শাহাব উদ্দিন মন্তব্য করেন, “পলাতক আসামি কীভাবে সামনে আসছে, কীভাবে নির্বাচন করছে—এই প্রশ্ন এখন সবার মনে।” ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের কর্মী মোজাহিদুল ইসলাম লিখেছেন, “শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার সংগঠন ব্যক্তিস্বার্থ ও প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। অতীতে যাদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ রয়েছে, তারা কীভাবে আবারও নেতৃত্বে আসছে—এ প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন।” ওলামা দলের নেতা আরিফুর রহমান মন্তব্য করেন, “সেদিন যারা রোজা রেখে ইফতার না করেই বাসায় ফিরেছিলেন, কষ্টটা তারাই বুঝবেন। নতুন নেতৃত্ব সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারবে না।” যুবদল নেতা ফখরুল ইসলাম তার মন্তব্যে বলেন, “ইফতার মাহফিলে হামলা ও শক্তি প্রদর্শনের অভিযোগের পরও শাহজাহান কীভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। অতীতকে ভুলে গেলে সত্যের মূল্য কমে যায়।” এছাড়া সোহেল আহমেদ, হায়দর আলী, মির্জা উজ্জল ও রশিদ আহমেদ শিপুসহ আরও অনেকে বিভিন্ন মন্তব্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ২০১৮ সালে বিএনপির একটি ইফতার মাহফিলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শাহজাহান মিয়ার নাম আলোচনায় আসে। তাদের দাবি, ওই ঘটনায় অনুষ্ঠানের কার্যক্রম পণ্ড হয়ে যায়। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের সময় শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য অবস্থানের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বিএনপি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে গেলেও সম্প্রতি তাদের কেউ কেউ এলাকায় প্রকাশ্যে সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। এ অবস্থায় বিভিন্ন মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং বিজয়ী হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা। তবে এ বিষয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত সেক্রেটারি মো. শাহজাহান মিয়ার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।

