মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
শ্রীমঙ্গল ৪ নং সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নে মেম্বারের হাতে মহিলা ইউপি সদস্য লাঞ্চিত, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা।
৪ নং সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নে ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বারের হাতে ৩ বারের নির্বাচীত ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি মহিলা সদস্য শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার(২৮ আগষ্ট) শ্রীমঙ্গল সিন্দুর খাঁন ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সচেতন মহল আশংঙ্খা করছেন। এব্যাপারে শ্রীমঙ্গল থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের বিরোদ্ধে মহিলা ইউপি সদস্য রাবেয়া আ
ক্তার লিখিত অভিযোগ করেছেন। মামলা নং-৩২/৩৩৪, অভিযোগে জানাযায়, শ্রীমঙ্গর সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইয়াকুব খাঁন একটি ওয়ারিশান সার্টিফিকেটের জন্য সিন্দুরখাঁন ইউনিয়ন ইউনিয়ন অফিসে এসে ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্যের সনাক্তকারীর স্বাক্ষর নিয়ে সচিবের নিকট জমা দেন। ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বারের আবু খায়ের মুরাদ বিষয়টি দেখে খুব ক্ষিপ্ত হয়ে মহিলা ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর কেটে নিজে স্বাক্ষর দেন। এই বিষয়টি মহিলা ইউপি সদস্য রাবেয়া আক্তার অবগত হওয়ার পর প্রতিবাদ করেন। বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডায় হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য আবু খায়ের মুরাদ ইউপি সদস্য রাবেয়া আক্তারকে গায়ে হাত দিয়ে শীলতাহানী করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সিন্দুর খাঁন ইউনিয়নের সচেতন মহল ঐদিন ২৭ আগষ্ট রাবেয়া আক্তারের শীলতাহানির প্রতিবাদে সিন্দুর খাঁন বাজার থেকে জানাউড়া পর্যন্ত বিক্ষুভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন। ৪নং সিন্দুরখান ইউনিয়নের স্থানীবাসিন্দা সহ শেখ জসিম উদ্দিন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য( সাংবাদিক) জানান, উত্তরাধিকারী সার্টিফিকেটের স্বাক্ষর নেওয়াকে কেন্দ্র করে আবু খায়ের মুরাদ যে ঘটনা ঘটিয়েছে এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি জানাচ্ছি। সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ভুক্তভোগী রাবেয়া আক্তার বলেন, ওয়ারিশান সার্টিফিকেটে সনাক্তকারী স্বাক্ষর দেওয়ার পর তা সচিবের কক্ষে জমা দেওয়া হয়। পরে দেখি স্বাক্ষরের ওপর ক্রস চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ইউপি সদস্য মুরাদ মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মুরাদ মেম্বার চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বারের আবু খায়ের মুরাদকে এবিষয়ে জানার জন্য মোবাইর ফোনে বারবার যোগাযোগ করলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত রবিন বলেন,ইউনিয়ন পরিষদের একটি রেজুলেশন বা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়াকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্যদের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সৃষ্ট বিরোধ আগামী রবিবার ইউনিয়ন পরিষদের সভা ডেকে আলোচনা করা হবে। সভায় সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মহিলা মেম্বার সম্ভবত দ্বিতীয়পক্ষের ওপর হামলা দিয়ে গেছে। আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব। বিষয়টি দেখছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহিলা মেম্বার এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি, চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা আইনানুগভাবে যে ব্যবস্থা নেওয়ার তা নেব।

