মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
রাজনগরে কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির প্রমাণ:
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার গবিন্দবাটি বাজারের পি,আর,,এন্টারপ্রাইজের রতন দাশের বিরোদ্ধে সরকার নির্ধরিত মুল্যের অতিরিক্ত মুল্যে সাব ডিলারের নিকট সার বিক্রির প্রমান পাওয়া গেছে। এছাড়াও সার মজুদ ও চোরাই পথে উপজেলা কৃষি অফিসার যোগসাজসে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সাব ডিলারা মেমো দিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসারের অভিযোগ করে বলে ইদানিং মেমো দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এব্যাপারে সাব ডিলারা রাজনগর কৃষি অফিসারের নিকট কয়েকবার অভিযোগ করলে ডিলারের দাযীত্বে রতন দাশ কৃষি অফিসারের নিকট ক্ষামা প্রার্থনা
করেন বলে কৃষি অফিস সুত্রে এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনগর উপজেলায় ৪ জন ডিলারের মধ্যে গবিন্দবাটি বাজারের ৮ টি ইউনিয়নের মধ্যে ২ টি ইউনিয়নের সার ডিলারের দায়ীত্বে পি,আর,এন্টারপ্রাইজর রতন দাশ। বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমল থেকে আওয়ামীলীগের কর্মী হিসাবে সারের ডিলার হিসাবে সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছেন। রাজনগর উপজেলা আওমীলীগের সাধারন সম্পাদক ও ৮ নং মনসুরনগর ইউনিয়নের রাতের ভোটের ৩ বারের চেয়ারম্যান মিলন বকস এর রাতের অফিস হিসাবে তার দোকানটি খুব পরিচিত ছিল। সেই সুবাদে সারের ব্যবসায় রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে সাব ডিলার ও খুচরা ক্রেতাদের নিকট চড়া দামে সার বিক্রি করতেন। কেহ প্রতিবাদ করলে খুব খারাপ আচরন করতেন। কোন সাব ডিলার প্রতিবাদ করলে তাকে উপজেলা আওমীলীগের সাধারন সম্পাদক ও ৮ নং মনসুরনগর ইউনিয়নের রাতের ভোটের ৩ বারের চেয়ারম্যান মিলন বকসকে দিয়ে শায়েস্থা করতেন। দীর্ঘ দিন ধরে এই ভাবে ব্যবসা চালিয়ে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন। পি,আর,এন্টারপ্রাইজেরের সাব ডিলারকে দেওয়া মেমো নং ৮২০, তারিখ: ২২/০২/২৬ ইং ১৯০৯, তারিখ: ১৬/১০/২৫ ইং, ৩৩৪, তারিখ: ১৫/১২/২৫ ইং ৯২১,তারিখ: ০৬/০৩/২৬ ইং ৮৮৬ তারিখ,২৭/০২/২৬ ইং ১৮৬৬, তারিখ:০৫/১০/২৫ ইং ৭৬৫ তারিখ: ১০/০২/২৬ ইং দেখা যায় সাব ডিলারের নিকট প্রতি বস্তা ইউরিয়া বিক্রি করছেন ১৩৫০ টাকা, টিএসপি ১৪০০ টাকা, ডিএফপি ১১০০ শত টাকা। সাব ডিলারের নিকট সরকারী বিক্রি মুল্য প্রতি বস্তা ইউরিয়া বিক্রির মুল্য ১৩২০ টাকা, টিএসপি ১৩৩০ টাকা, ডিএফপি ১০২০ টাকা। এছাড়া সাধারন কৃষকের কাছে আরও চড়া মুল্যে বিক্রি করেন। কখনও কখনও সারের কৃত্রিম সংকট তৈরী করে মুল্য বৃদ্ধি করতেন। নাম গোপন রাখার শর্তে ৩ জন সাব ডিলার বলেন, পি,আর,এন্টারপ্রাইজের রতন দাশ সব সময় সাব ডিলারকে হমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি সার দেওয়া বন্ধ করে দিতেন। কয়েক মাস ধরে সারের প্রতি বস্তা মুল্য তার ইচ্ছা মতো নিচ্ছেন। কেহ প্রতিবাদ করলে তাকে সার দেওয়া বন্ধ করে দেন।। বর্তমানে কয়েক মাস যাবৎ কোন সাব ডিলারকে মেমো দেওয়া হচ্ছেনা। মাঝে মধ্যে ১/২ কে মেমো দেন। পিআর এন্টারপ্রাইজের ডিলার রতন দাশকে অভিযোগের বিষয় জানতে ২ টি মোবাইল ফোন থেকে ৫ বার ফোন করার পর ফোন ধরেননি। পরে ফোন রির্টান করে তার উপর আনিত অিিভযোগ অস্বীকার করেন। রাজনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, পিআর এন্টারপ্রাইজের বিরোদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেল ইউএনও স্যার কমটির সভাপতি হিসাবে ব্যবস্থা নেবেন। পিআর এন্টারপ্রাইজের ডিলারকে অভিযোগের ভিক্তিতে পুর্বে ডেকে এনে সর্তক করা হয়েছিল এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এরিয়ে গিয়ে বলেন, আমার ডিলাররা যে কোন সময় আসতে পারে। এরপর থেকে রতন দাশকে বাঁচানো জন্য প্রতিটি প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে থাকেন। রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, পিআর এন্টারপ্রাইজের ডিলারের দুর্নীতির বিষয় আমি অবগত নয়। অভিযোগ আমি তদন্ত করে দেখবো। প্রমান পেলে ডিলার লাইসেন্স বাতিল করা করব। মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: জালাল উদ্দিন বলেন, কোন সার ডিলার অতিরিক্ত মুল্যে ও রশিদ ছাড়া সার বিক্রি করলে তার লাইসেন্স বাতিল করে দেবো। গততে একবার পিআর এন্টারপ্রাইজ দুর্নীতির জন্য আমার নিকট ক্ষমা চেয়েছিল। এবার দুর্নীতি প্রমান পেলে কাউকে কষমা করা হবে।

