গোয়াইনঘাট/সিলেট প্রতিনিধি
গোয়াইনঘাট থানা ওসি মনিরুজ্জামান: ছাড়তে অনীহা, শুধু মায়া নাকি আরও কিছু?
বাংলাদেশ পুলিশের একজন কর্মকর্তার জন্য বদলি কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। চাকরির প্রয়োজনেই এক কর্মস্থল থেকে অন্য কর্মস্থলে যেতে হয়। কিন্তু যখন কোনো কর্মকর্তাকে বদলির আদেশ বাস্তবায়নের জন্য সদর দপ্তরকে বিশেষভাবে নির্দেশনা দিতে হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম নেয়। সম্প্রতি গোয়াইনঘাট থানার ওসি মনিরুজ্জামানকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিনি বর্তমান কর্মস্থল ছাড়তে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরের নজরে আ
সার পর আদেশে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণ না করলে তাকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হিসেবে গণ্য করা হবে।প্রশ্ন হচ্ছে, এমন কী আছে গোয়াইনঘাটে, যা একজন কর্মকর্তাকে বদলির পরও সেখানে থেকে যেতে আগ্রহী করে তুলছে? গোয়াইনঘাট নিঃসন্দেহে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি জনপদ। কিন্তু প্রশাসনিক মহল ও স্থানীয়দের আলোচনায় ভেসে আসছে ভিন্ন কিছু প্রশ্নও। সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে পাথর, বালু, পরিবহন, বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সীমান্তকেন্দ্রিক নানা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবখানেই এখন একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে: গোয়াইনঘাট কি শুধুই একটি থানা এলাকা, নাকি এটি এমন একটি কর্মস্থল যেখানে প্রভাব, যোগাযোগ এবং প্রশাসনিক সুবিধার বিস্তৃত ক্ষেত্র তৈরি হয়? অনেকেই বলছেন, কোনো কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একটি এলাকায় দায়িত্ব পালন করলে সেখানে একধরনের স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রভাববলয় তৈরি হয়। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বিদ্যমান বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কি কোনো কোনো কর্মকর্তার জন্য অতিরিক্ত আকর্ষণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়? অবশ্য এসবই এখন জনমতের আলোচনার বিষয়। এসব বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা প্রমাণ জনসম্মুখে আসেনি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যখন কোনো কর্মকর্তা বদলির পরও কর্মস্থল ছাড়তে অনাগ্রহী হন, তখন জনগণের কৌতূহল তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের আস্থা নিয়েই পরিচালিত হয়। তাই এমন পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যত বেশি থাকবে, ততই কমবে গুঞ্জন, কমবে প্রশ্ন।শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি থেকেই যায় গোয়াইনঘাট কি শুধু দায়িত্ব পালনের একটি কর্মস্থল, নাকি এমন কিছু বাস্তবতা সেখানে রয়েছে, যা একজন কর্মকর্তাকে বদলির আদেশের পরও স্থানটি ছাড়তে অনিচ্ছুক করে তোলে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই হয়তো এখন সময়ের দাবি।

