মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
সীমান্তপথে সিগারেট সাম্রাজ্য চার রুট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ মুন্না ভাইয়ের বিরুদ্ধে
সিলেট ও মৌলভীবাজারের সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি রুট দিয়ে দেশে প্রবেশ করা অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাই’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় পর্যায়ে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগ অনুযায়ী, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজারের চাতলাপুর এবং জকিগঞ্জের কালীগঞ্জ—এই চার সীমান্ত রুটকে ঘিরে একটি সংঘবদ্ধ সরবরাহব্যবস্থা গড়ে উঠেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তে সিগারেট প্রবেশের পর তা বিভিন্ন পরিবহন ও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে মৌলভীবাজার সদরসহ সি
লেট বিভাগের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে পৌঁছে দেওয়া হয়। সীমান্তের ‘মহাজন’ থেকে শুরু করে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে একটি নির্দিষ্ট চেইন কাজ করে বলেও স্থানীয়দের দাবি। চার সীমান্ত রুটে প্রভাবের অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে অবৈধ সিগারেট সরবরাহের একাধিক রুটের মধ্যে অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথে মুন্না ভাইয়ের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জৈন্তাপুর সীমান্তকে এই নেটওয়ার্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সীমান্তের বিভিন্ন ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ভারতীয় সিগারেটের চালান দেশে প্রবেশের পর দ্রুত নির্দিষ্ট গন্তব্যে সরিয়ে নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবহন এবং রুট পরিবর্তনের কৌশলও নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ২৮ বছর বয়সেই এত বড় নেটওয়ার্ক নেপথ্যে কারা? স্থানীয় পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাইয়ের’ বয়স। মাত্র ২৮ বছর বয়সে কীভাবে তিনি চারটি সীমান্ত রুটকেন্দ্রিক অবৈধ সিগারেট সরবরাহব্যবস্থায় এতটা প্রভাব বিস্তার করেছেনএ প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁর পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি, অর্থের জোগানদাতা বা সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে সীমান্ত থেকে বাজার পর্যন্ত পুরো সরবরাহ চেইনের অর্থনৈতিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। ‘মুন্না ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা আছে কি? অভিযোগের মাত্রা ও নেটওয়ার্কের ব্যাপকতার তুলনায় তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাইয়ের’ বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা রয়েছে কি না এ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অভিযোগগুলো সত্য কি না, সেটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলে সরবরাহ? স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, সীমান্তের ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে চালান পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত থেকে পাইকারি বাজার এবং সেখান থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত একটি গোপন যোগাযোগব্যবস্থা থাকার অভিযোগও রয়েছে। এদিকে বৈধ তামাক ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধ ভারতীয় সিগারেটের অবাধ প্রবেশের কারণে বৈধ ব্যবসা ও দেশীয় তামাকশিল্প আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চালান আটকের পাশাপাশি মূল হোতা শনাক্তের দাবি সচেতন নাগরিকদের মতে, সীমান্তে বিচ্ছিন্নভাবে অবৈধ সিগারেটের চালান আটক করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সীমান্তের উৎস, অর্থের জোগানদাতা, পরিবহনকারী, মধ্যস্থতাকারী এবং পাইকারি-খুচরা সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে পুরো নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তানিম মিয়া ওরফে ‘মুন্না ভাইয়ের’ বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের প্রকৃত পরিধি এবং এর পেছনে কারা রয়েছেন আতা উদঘাটনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

