স্টাফ রিপোর্টার
বারবার সতর্ক করেও অনিয়ম, শাহ মোস্তফা ও রসগোল্লা রেস্তোরাঁকে লাখ টাকা জরিমানা
মৌলভীবাজারের কুসুমবাগ এলাকায় খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শাহ মোস্তফা বিরিয়ানি হাউজ ও রসগোল্লা রেস্তোরাঁকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিরাপদ খাদ্য আইনে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠান দুটিতে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণে একাধিক অনিয়ম এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র উঠে আসে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সাল ইবনে ইদ্রিসের নেতৃত্বে এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, মৌলভীবাজারের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে দে
খা যায়, প্রতিষ্ঠান দুটিতে খাদ্য উৎপাদনের বৈধ অনুমোদন বা লাইসেন্স নেই। বিষ্ঠাযুক্ত ডিম না ধুয়ে নোংরা অবস্থায় সংরক্ষণ, ঢাকনাবিহীন অবস্থায় রান্না করা খাবার রাখা, খোলা ডাস্টবিনে পচনশীল বর্জ্য ফেলা এবং রান্নায় পোড়া তেল ব্যবহারের মতো অনিয়ম রয়েছে। এ ছাড়া জিলাপি তৈরিতে রঙযুক্ত গুড় ব্যবহার, ছাদে পচা ও পোকায় ধরা রসুন শুকানো এবং কার্বন ও কালিযুক্ত খবরের কাগজ দিয়ে খাবার ঢেকে রাখার বিষয়টিও নজরে আসে। অন্যদিকে, উৎপাদিত দইয়ের কাপে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ ছিল না। খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছিল না। এমনকি খাবার তৈরির কক্ষে কর্মীদের ব্যবহৃত কাপড়ও ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে সতর্ক করা হয়েছিল এবং লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে অনিয়ম অব্যাহত রাখায় ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী মোট এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করা হয়। অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. শাকিব হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট সাপোর্টিং স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন। জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রশ্ন থেকে যায়—বারবার সতর্ক করার পরও যদি খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম মানা না হয়, তাহলে সাধারণ ভোক্তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি কতটা জরুরি, তা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

