সাদ্দাম হোসেন সাইফ | লামা, বান্দরবান:
অংহ্লারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বান্দরবানের লামা উপজেলার অংহ্লারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবক, স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষকদের উদ্বেগ থাকলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এথোয়াই মার্মার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা এবং নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয় ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়
ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। তাঁদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় ভবনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে কেন এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশের পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই; গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে বর্তমান সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ অংহ্লারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন, জেলা শিক্ষা অফিসারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়ের ভবনের অবস্থা দেখে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। তবে পরিদর্শনের প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয় ভবনটির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার পরও কেন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি? ‘ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে না—প্রধান শিক্ষক; বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এথোয়াই মার্মার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার দৃষ্টিতে এই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে না। ভবন পরিত্যক্ত করলে অনেক ঝামেলা আছে। আপনারা কি এই বিষয়ে আমার চেয়ে বেশি বুঝবেন নাকি? এই বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে পারব না। আপনারা কোনো নিউজ-টিউজ করিয়েন না। প্রধান শিক্ষকের এমন বক্তব্যের পর ভবনটির নিরাপত্তা মূল্যায়ন, পরিত্যক্ত ঘোষণার প্রক্রিয়া এবং নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ভবনটি প্রকৃতপক্ষে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কারিগরি পরিদর্শন এবং লিখিত মূল্যায়ন জরুরি। আতঙ্কের মধ্যে পাঠদান করছেন শিক্ষকেরা; প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের বিপরীতে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকেরা জানান, ভবনটির বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা অনেকটা ভয়ের মধ্য দিয়েই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে দ্রুত নতুন ভবনের ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষকদের এমন বক্তব্যে বিদ্যালয় ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে। যেখানে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষাগ্রহণের কথা, সেখানে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবকদের উদ্বেগ কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নতুন দায়িত্বে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি; বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রমিজ উদ্দিন রনি বলেন, “আমি সবেমাত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছি এবং বিস্তারিত এখনো অবগত নই। স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে ইনশাআল্লাহ আমার পক্ষ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাব।” তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেলেও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ, তদন্তের দাবি; এদিকে বিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক কিছু বরাদ্দের ব্যবহার নিয়েও নয়ছয়ের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কেউ কেউ। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের ভবনের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক বরাদ্দের ব্যবহার—উভয় বিষয়েই নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দুর্ঘটনার অপেক্ষা নয়, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ চান এলাকাবাসী; এলাকাবাসীর মতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা কাম্য নয়। ভবনটি সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ কি না, তা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলে দ্রুত কারিগরি পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ভবনটি ব্যবহারযোগ্য রাখা হবে, নাকি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে—সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অপেক্ষা না করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এখন প্রশ্ন—শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন ও নির্দেশনার পরও অংহ্লারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নিয়ে কার্যকর অগ্রগতি কেন দৃশ্যমান নয়? শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকৌশল কর্তৃপক্ষ কবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে? অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিশুদের শিক্ষা ও জীবন দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ; তাই নিরাপদ বিদ্যালয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

