স্টাফ রিপোর্টার
প্রতিপক্ষকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা? মৌলভীবাজারে সাবেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ
একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের অভিযান। সঙ্গে সংবাদদাতার সহযোগী পরিচয়ে তিন ব্যক্তি। তল্লাশির একপর্যায়ে তাঁদের একজনের হাতে বেরিয়ে আসে চারটি গুলিসহ একটি রিভলবার। কিন্তু তাঁদের অতি উৎসাহী ভূমিকা পুলিশের সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরপরই সামনে আসে অপহরণ, নির্যাতন এবং প্রতিপক্ষকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ। মৌলভীবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ আহমদের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম লিটন। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববিরোধের জেরে তা
ঁকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে হাতে রিভলবার দিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তাঁর বাসায় অস্ত্র রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তুহিন আহমদ (৪৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। পুলিশের অভিযানে সন্দেহের সূত্রপাত পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়কাঁপন আবাসিক এলাকার শফিকুল ইসলাম লিটনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় সংবাদদাতার সহযোগী পরিচয়ে একই গ্রামের তুহিন আহমদ, ফাহিম আহমদ (২২) ও বাবুল মিয়া (২৬) পুলিশের সঙ্গে ওই বাসায় যান। তল্লাশির একপর্যায়ে তাঁদের অতি উৎসাহী ভূমিকা এবং তুহিনের রিভলবার বের করে দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের সন্দেহের সৃষ্টি করে। পরে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তাঁর সঙ্গে থাকা অপর দুজন পালিয়ে যান। পরে পুলিশ বাসার ভাড়াটিয়া শফিকুল ইসলাম লিটনকে আহত অবস্থায় দেখতে পায়। এরপর ঘটনাটি নতুন মাত্রা পায়। অপহরণ, নির্যাতন ও অস্ত্র দিয়ে ছবি ধারণের অভিযোগ শফিকুল ইসলাম লিটনের অভিযোগ, গত ৩ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূর্ববিরোধের জেরে সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ আহমদের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে একটি অন্ধকার কক্ষে আটকে রেখে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। তাঁর দাবি, একপর্যায়ে তাঁর হাতে একটি রিভলবার দিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে রাত আনুমানিক দুইটার দিকে তাঁকে বাসায় ফিরিয়ে এনে সোফার নিচে চারটি গুলিসহ একটি রিভলবার রেখে দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনার পেছনে কী, তদন্তে মিলবে উত্তর ঘটনার বিবরণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। যে বাসায় অস্ত্র থাকার তথ্য দিয়ে পুলিশকে নেওয়া হয়েছিল, সেখানে সংবাদদাতার সহযোগী পরিচয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল? রিভলবারটি কোথা থেকে এসেছে? ভুক্তভোগীর হাতে অস্ত্র দিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু? আর এ ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ আহমদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, উদ্ধার করা অস্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষা, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ। দুটি মামলা, গ্রেপ্তার একজন মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন চন্দ্র সরকার জানান, এ ঘটনায় তুহিন আহমদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অস্ত্র আইন, ১৮৭৮ এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ৫(১১)২০২৬ ও ৬(১১)২০২৬। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে নিরপেক্ষ তদন্তের অপেক্ষা একজন নাগরিককে অপহরণ করে নির্যাতন করা যেমন গুরুতর অপরাধ, তেমনি কাউকে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হলে সেটিও আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। আবার অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করাও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তাই এ ঘটনায় শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করেই তদন্তের পরিসমাপ্তি নয়; অস্ত্রের উৎস, ঘটনার পরিকল্পনা, প্রত্যেকের ভূমিকা এবং অভিযোগের সত্যতা পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ঘাটন করা জরুরি। অপরাধী যে-ই হোক, তাঁর পরিচয় বা প্রভাব যেন তদন্তের পথে বাধা না হয়—এটাই এখন সচেতন মহলের প্রত্যাশা।

