মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
রাজনগরে এক ব্যবসায়ী বিয়ে করেও স্ত্রীকে চেনেন না! প্রবাসী নারীর মামলায় বিপাকে ব্যবসায়ী
বিয়ে করে দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাসের পর স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজারের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের বৈবাহিক অধিকার, সামাজিক মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক প্রবাসী নারী। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে। মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার নয়াটিলা গ্রামের বাসিন্দা কাছিম উল্লার পুত্র মনতু মিয়া স্থানীয়ভাবে পরিচিত
একজন ব্যবসায়ী। অন্যদিকে ভুক্তভোগী পেয়ারার বেগম কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং একজন প্রবাসী নারী। পূর্বে তিনি স্বামী পরিত্যক্তা ছিলেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি একটি এফিডেভিটের মাধ্যমে গোপনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় দুই লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে মামলার কাগজপত্রে উল্লেখ রয়েছে। বিয়ের পর উভয়েই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন এবং সামাজিকভাবে নিজেদের দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারী। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে মনতু মিয়া ধীরে ধীরে পেয়ারার বেগমের উপার্জিত অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিদেশে কর্মরত থাকায় পেয়ারার বেগমের আর্থিক সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময় অর্থ গ্রহণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে মনতু মিয়া তার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন এবং পরে সম্পূর্ণভাবে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। শুধু তাই নয়, তিনি তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টিও অস্বীকার করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সামাজিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েন পেয়ারার বেগম। ভুক্তভোগী নারীর দাবি, তিনি শুধু একজন স্ত্রী হিসেবেই স্বীকৃতি চাননি, বরং তার সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতিরও বাস্তবায়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরে মৌলভীবাজারের বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করে নিজের বৈধ অধিকার ও মর্যাদা ফিরে পাওয়ার আবেদন জানান। মামলাটি প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করে আদালত বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। আদালত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর পিবিআই ইতোমধ্যে ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মনতু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তার দাবি, তিনি পেয়ারার বেগম নামে ওই নারীকে চেনেন না এবং অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে পরে যখন বিয়ের এফিডেভিট, একসঙ্গে বসবাসের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দেননি। বরং কথোপকথনের একপর্যায়ে তড়িঘড়ি করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এমন ঘটনা শুধু একটি পরিবারের সংকট নয়; বরং সমাজে নারীর অধিকার, বৈবাহিক নিরাপত্তা এবং আইনি সুরক্ষার প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ করে প্রবাসী নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে কেন্দ্র করে প্রতারণা বা শোষণের অভিযোগ নতুন নয়। ফলে এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তারা মনে করেন, আদালতের নির্দেশে চলমান তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী নারী তার ন্যায্য অধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতি ফিরে পাবেন। তবে মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি। তদন্ত প্রতিবেদন ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির প্রকৃত সত্যতা নির্ধারিত হবে। এখন সংশ্লিষ্ট সকলের নজর পিবিআইয়ের তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে।

