স্টাফ রিপোর্টার
লিমার ফেসবুক পোস্টে ট্যাগ, এজাহারে সাংবাদিকের নাম সম্পৃক্ততার প্রমাণ কোথায়?
ফেসবুকে একটি পোস্ট প্রকাশ। সেই পোস্টে ট্যাগ করা হলো সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলামকে। এরপর ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে দায়ের করা সাইবার অভিযোগে নাম এলো তারও। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই শুধু একটি পোস্টে ট্যাগ হওয়াই কি ওই পোস্টের সঙ্গে একজন সাংবাদিকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ? মূল পোস্টের উৎস, Lima Akter আইডির প্রকৃত ব্যবহারকারী, ট্যাগ করার উদ্দেশ্য এবং সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না এসব বিষয় এখন তদন্তের কেন্দ্রে আসার দাবি উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের Lima Akter নামে
র একটি আইডি থেকে প্রকাশিত একটি পোস্টে সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলামকে ট্যাগ করা হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মৌলভীবাজারের সাংবাদিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে পোস্টে ট্যাগ হওয়া এবং পোস্টের সঙ্গে আইনগতভাবে সম্পৃক্ত থাকা কি একই বিষয়? সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের দাবি, তিনি ওই পোস্ট তৈরি, প্রকাশ কিংবা প্রচারের সঙ্গে জড়িত নন। তার বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট আইডি থেকে তাকে শুধু ট্যাগ করা হয়েছে। পোস্টটির সঙ্গে তাকে সম্পৃক্ত করার মতো কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রমাণ থাকলে সেটি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হোক। সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি যদি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকি, তাহলে আমাকে কেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এজাহারে সম্পৃক্ত করা হলো এ প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই বেরিয়ে আসা উচিত। আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ করতে চাই না; আমি চাই, আমার সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা হোক। তার দাবি, একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও সত্য তুলে ধরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও ব্যক্তিগত বা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে পোস্ট তৈরি কিংবা প্রচার করা তার কাজ নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবেও এ ধরনের বিষয় এড়িয়ে চলেন বলে জানান। তবে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র জানতে হলে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ। Lima Akter নামের ফেসবুক আইডিটি কে ব্যবহার করেন? মূল পোস্টটি কে তৈরি ও প্রকাশ করেছেন? সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ওই আইডির কোনো যোগাযোগ ছিল কি না? পোস্ট প্রকাশের আগে বা পরে কোনো কথোপকথন হয়েছে কি না? তিনি পোস্টটি শেয়ার, রিপোস্ট, কমেন্ট বা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রচার করেছেন কি না? আর তাকে ট্যাগ করার উদ্দেশ্যই বা কী ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে অভিযোগের ভিত্তি অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে। বিশেষ করে ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু একটি স্ক্রিনশট বা ট্যাগ নয়, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম, যোগাযোগের তথ্য, পোস্টের সময়, শেয়ার বা প্রচারের রেকর্ডসহ প্রাসঙ্গিক ডিজিটাল উপাত্ত যাচাই করা যেতে পারে। অন্যদিকে, অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগের ভিত্তিও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন। সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল কি না এবং তাকে অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত করার আইনগত ভিত্তি কী এসব প্রশ্নের উত্তর যথাযথ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়ার বিষয়। কারণ কোনো ব্যক্তির নাম অভিযোগ বা এজাহারে থাকলেই তিনি অপরাধী হিসেবে গণ্য হন না। অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা প্রমাণের বিষয়। সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত বিরোধে নিতে চান না। তার প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক। তিনি জড়িত থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে তা স্পষ্ট হোক; আর জড়িত না থাকলে কেন তার নাম অভিযোগে এসেছে, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। এখন তাই মূল প্রশ্ন একটাই Lima Akter আইডির একটি ট্যাগ কি সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও কোনো ডিজিটাল তথ্য? উত্তরটি অনুমানে নয়, বেরিয়ে আসতে হবে তদন্তে। কারণ অভিযোগের চেয়ে বড় হলো প্রমাণ, আর ট্যাগের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রকৃত সম্পৃক্ততা।

