নিজস্ব প্রতিবেদন
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে ‘২৪ লাখ টাকার দুর্নীতি’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান — পিআইবির মহাপরিচালকের তীব্র প্রতিবাদ
বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) ও এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে ঘিরে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক কালের কণ্ঠ-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পিআইবি। গত ৯ মার্চ পাঠানো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র এখনো পত্রিকাটি প্রকাশ না করায় পিআইবি বোর্ডের ১৭১তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবাদটি প্রকাশ্যে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পিআইবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ৫ মার্চ কালের কণ্ঠ-এ “ফারুক ওয়াসিফ, আপনিও!” শিরোনামে প্রকাশি
ত প্রতিবেদনে মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জালিয়াতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিবেদনে একটি ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ করে তাতে “মানি ইজ পাওয়ার”, “নতুন বই: নীতিবাক্য সমগ্র” ইত্যাদি ক্যাপশন যুক্ত করা হয়, যা পিআইবির মতে চরম মানহানিকর ও অবমাননাকর। প্রতিবাদপত্রে ফারুক ওয়াসিফ বলেন, প্রতিবেদনে যে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে ২৪ লাখ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর দাবি, পিআইবির আয়-ব্যয় সম্পূর্ণ ডিজিটাল ডি-নথি ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং সেখানে এ ধরনের কোনো লেনদেনের রেকর্ড নেই। পিআইবি জানায়, আলোচিত অর্থটি তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ উপলক্ষে কোনো অনুষ্ঠানে ব্যয় করা হয়নি। বরং অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত সেই অর্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র “শ্রাবণ বিদ্রোহ” তৈরির খরচ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। ভ্যাট-ট্যাক্সসহ মোট ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুপি বাঘা প্রডাকশনসকে পরিশোধ করা হয়েছে এবং এর সমস্ত প্রামাণ্য নথি পিআইবিতে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানানো হয়। এছাড়া তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি এবং এর মূল আয়োজন পিআইবির দায়িত্বে ছিল না বলেও উল্লেখ করা হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী পিআইবি কেবল আলোকচিত্র ও ড্রোন ভিডিও প্রদর্শনী এবং তথ্যচিত্র প্রদর্শনের অংশটি আয়োজন করে। প্রতিবাদপত্রে আরও অভিযোগ করা হয়, কালের কণ্ঠ-এর প্রতিবেদকরা প্রকৃত তথ্য গোপন করে ভুয়া কাগজপত্রের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। এমনকি এক প্রতিবেদক অন্য একটি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পিআইবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়। এদিকে পিআইবির সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদের বক্তব্য বিকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। গোলাম মুর্শেদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর নামে যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে তার অধিকাংশই বানোয়াট এবং তিনি কখনোই মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে এমন কোনো বক্তব্য দেননি। প্রতিবাদপত্রে পিআইবি জানায়, গত ১৭ মাসে প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৮ হাজার সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং সাংবাদিকতা বিষয়ে একাধিক গবেষণা গ্রন্থ ও জার্নাল প্রকাশ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংবাদপত্রের ডিজিটাল আর্কাইভ সংরক্ষণ করেও রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ সাশ্রয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সবশেষে পিআইবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাই আগামী তিন দিনের মধ্যে কালের কণ্ঠ-এর প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণসহ সব প্ল্যাটফর্মে একই গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবাদপত্র প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। পিআইবি জানিয়েছে, আলোচিত অভিযোগ সংক্রান্ত সব নথি ও ব্যয়ের প্রমাণপত্র সাংবাদিকদের যাচাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে সংরক্ষিত রয়েছে এবং যে কোনো নিরপেক্ষ তদন্তে সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত।

