মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
উত্তর কলিমাবাদে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের তৎপরতায় উত্তর কলিমাবাদ এলাকার একটি আলোচিত ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার সময় চুরি হওয়া আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন ভোররাতে মৌলভীবাজার শহরের উত্তর কলিমাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-পরিত্যক্তা এক শ্রমজীবী নারী তার শিশু কন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় তিনজন দুর্বৃত্ত কৌশলে ঘরের দরজ
ার সিটকানি বাইরে থেকে খুলে মুখোশ পরে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তাদের মধ্যে দুজন সংঘবদ্ধভাবে তাকে ধর্ষণ করে এবং অপর একজন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় সদর মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঢাকা জেলার সাভার থানার রাজাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফেরদৌস নামে একজনকে এবং মৌলভীবাজার শহরের উত্তর কলিমাবাদ এলাকা থেকে জয়নাল ওরফে কর্নাল নামে অপর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, অভিযানে মামলার ঘটনায় চুরি হওয়া দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। তদন্তে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি ফেরদৌসের বিরুদ্ধে পূর্বে তিনটি চুরির মামলাসহ মোট চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর এক আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মামলার তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে এমন একটি ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটনকে স্থানীয় সচেতন মহল ইতিবাচকভাবে দেখছে।

