জাগ্রত বার্তা প্রতিবেদক
মাধবপুরে বখাটের উত্ত্যক্ততায় নবম শ্রেণির ছাত্রী মীম আক্তারের মৃত্যু এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে থেমে গেল স্বপ্নের জীবন
মাধবপুর উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাটাবিল গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মীম আক্তার (১৫)-এর অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। বখাটেদের দীর্ঘদিনের উত্ত্যক্ততার শিকার হয়ে সে শেষ পর্যন্ত জীবনকে হার মানে—এমন অভিযোগে এখন এলাকায় চলছে আলোচনা ও ক্ষোভ। স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক অভিযোগে জানা যায়, আদমপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কাটাবিল গ্রামের পচন মিয়ার ছেলে সানুয়ার মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মীম আক্তারকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি একাধিকবার পরিবারকে
জানানো হলেও কোনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন স্বজনরা। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, মানসিক চাপ ও নির্যাতনের এক পর্যায়ে মীম আক্তার বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। টানা এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর আগে দেওয়া বক্তব্যে অভিযুক্ত সানুয়ার মিয়ার নাম উল্লেখ করে তাকে বিষপানে প্ররোচিত করার অভিযোগ তোলেন মীম আক্তার এমনটাই দাবি পরিবারের সদস্যদের। এই বক্তব্য এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্কুলপড়ুয়া কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। এমন একটি মর্মান্তিক মৃত্যু সমাজের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেন অনেকে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার বা আনুষ্ঠানিক অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি। মীম আক্তারের মৃত্যুতে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও শোকাহত। তারা বলছেন, একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন করুণ পরিণতি মেনে নেওয়া কঠিন। শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আরও জোরদার করার দাবি তুলেছেন তারা। সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, কিশোর-কিশোরীদের প্রতি উত্ত্যক্ততা এখন ভয়াবহ সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সময়মতো প্রতিরোধ ও আইনগত ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের ঘটনা বাড়তেই থাকবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। মীম আক্তারের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য একটি গভীর ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। এখন প্রশ্ন উঠছে আর কত মীম হারালে আমরা বাস্তবভাবে সচেতন হব?

