প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
মৌলভীবাজারে ব্যাঙের ছাতার মতো কাচ্চি বিরিয়ানির দোকান
রান্না হচ্ছে কোথায়, কী খাচ্ছেন ভোক্তারা? মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য কাচ্চি বিরিয়ানির দোকান। বাহ্যিকভাবে এসব দোকান ঝকঝকে, আকর্ষণীয় ও জমজমাট মনে হলেও ভেতরের বাস্তবতা নিয়ে সচেতন মহলে তৈরি হয়েছে গুরুতর উদ্বেগ। কারণ, অনেক দোকানেই নেই নিজস্ব রান্নাঘর কিংবা যথাযথ রান্না ব্যবস্থা—ফলে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে এই খাবার রান্না হচ্ছে কোথায়? রান্নাঘর নেই, তবু বিক্রি চলছে অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার বহু কাচ্চি দোকানে সরাসরি রান্নার কোনো ব্যবস্থা নেই। এক
াধিক সূত্র বলছে, এসব দোকানের খাবার দোকানের বাইরে—বাসাবাড়ি কিংবা অস্বাস্থ্যকর ও অস্বীকৃত স্থানে রান্না করে দোকানে এনে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে খাবারের স্বাস্থ্যমান, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা। জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিতে বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। উপকরণ নিয়েও অভিযোগ খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে অতিরিক্ত মাত্রায় কেওড়া জল, গোলাপজলসহ নানা কৃত্রিম সুগন্ধি ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনহীন বা অতিরিক্ত সুগন্ধি উপাদান দীর্ঘদিন নিয়মিত গ্রহণ করলে লিভার, কিডনি ও পরিপাকতন্ত্রে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কম দামে ‘বেশি মাংস’—উৎস নিয়ে প্রশ্ন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন হলো—স্বল্প মূল্যে এত বেশি মাংস দিয়ে কীভাবে দোকানগুলো লাভ করছে? কিছু বিক্রেতা দাবি করেন, “আমাদের পুষে যায়।” তবে অনুসন্ধানে আরও উদ্বেগজনক তথ্য মিলেছে। গোপন সূত্রে জানা গেছে, কোনো কোনো দোকানে ব্যবহৃত মাংস আসে চামড়া ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু উৎস থেকে—যা অত্যন্ত অল্প দামে সংগ্রহ করা হয়। এই মাংসের জবাই পদ্ধতি, সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যমান নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে যদি অভিযোগগুলোর সত্যতা থাকে, তাহলে তা মৌলভীবাজারের ভোক্তা অধিকার ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এসব খাবার মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি সচেতন নাগরিকদের দাবি— মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে দ্রুত মাঠপর্যায়ে অভিযান চালিয়ে বিষয়টি তদন্ত করতে হবে। কোথায় রান্না হচ্ছে, কী উপকরণ ব্যবহার হচ্ছে, মাংসের উৎস কী—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হতে পারে। ভোক্তাদের প্রতি সতর্ক বার্তা ভোক্তাদের প্রতিও আহ্বান—শুধু কম দাম বা স্বাদের মোহে না পড়ে দোকানের রান্না ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ যাচাই করে খাবার গ্রহণ করুন। কারণ, আজকের অবহেলা আগামী দিনের বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

