প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
আওয়ামী লীগের ভোট কে পাবে? নীরবে চলছে কৌশলের লড়াই
ঢাকা প্রতিনিধি: আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে যতটা না উত্তাপ, তার চেয়েও বেশি ভিতরে ভিতরে চলছে নীরব প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতার মূল প্রশ্ন একটাই— আওয়ামী লীগের ভোট শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে যাবে? কারণ, নির্বাচনের মাঠে এখন নানা অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তন, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ধরনের প্রচারণা বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ‘নেই, সেই নির্বাচনে ভোট নয়’—এ ধরনের বার্তা অনলাইন দুনিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশের মধ্যে ভোটকেন্দ্
রে যাওয়ার আগ্রহ কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের মিত্র ১৪-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোও এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ফলে ঐতিহ্যগতভাবে যারা আওয়ামী লীগঘেঁষা রাজনীতিতে ছিলেন কিংবা দীর্ঘদিন ধরে জোটগতভাবে ভোট দিয়ে এসেছেন—তাদের বড় অংশ এবার উদাসীন থাকতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। তবে বাস্তবতা হলো—আওয়ামী লীগের একটি বড় শ্রেণি ভোটার সবসময় প্রকাশ্যে সক্রিয় থাকে না। এদের অনেকে নীরব সমর্থক হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের দিন তারা হঠাৎ করে ভোটকেন্দ্রে আসেন—আর তখনই ফলাফলের পাল্লা উল্টে যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আওয়ামী লীগের এই নীরব ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে পারলেই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়। তাই প্রকাশ্যে বড় প্রচারণা না থাকলেও আড়ালে চলছে ভোট-অঙ্কের হিসাব, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, গোপন তৎপরতা, এবং নানা কৌশলী উদ্যোগ। এক কথায় বলা যায়—এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হচ্ছে ‘নীরব ভোট’। আওয়ামী লীগের ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেন কি না, গেলে কার দিকে ঝুঁকবেন—এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে অনেক আসনের ভাগ্য। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতার নাম— আওয়ামী লীগের ভোটের দখল নিতে নীরবে চলছে কৌশলের লড়াই।

