মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
ফ্যামিলি কার্ডের তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন, চা শ্রমিকদের জন্য ঘর নির্মাণ অনুদান ও শিক্ষাবৃত্তি ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত; হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের তৃতীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়
োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। অনুষ্ঠানস্থলে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ, চা শ্রমিক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ঢল নামে। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে ও সরকারের নতুন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশ ধারণ করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের তৃতীয় পর্যায়ের সূচনা ঘোষণা করেন। পরে তিনি নির্বাচিত সুবিধাভোগী নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এ সময় তিনি উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, “নারীকে ক্ষমতায়ন করা মানে একটি পরিবারকে শক্তিশালী করা। একজন নারী যখন অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী হন, তখন তার পরিবার, সন্তান এবং সমাজও উপকৃত হয়। সে লক্ষ্যেই সরকার নারীকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, দেশের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি সেই বৃহৎ পরিকল্পনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের কল্যাণে একাধিক বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে চা শিল্পের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ খাতের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। এ সময় তিনি চা শ্রমিক পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণে আর্থিক অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি চালুর কথাও জানান। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণায় উপস্থিত চা শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সঞ্চার হয়। শ্রমিক প্রতিনিধিরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও আবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা চা শ্রমিক পরিবারগুলোর জন্য এ ধরনের সহায়তা বাস্তব পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবে। এর আগে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশপথে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে সড়কপথে শ্রীমঙ্গলে এসে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম দেশের নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নারীদের আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়ন, পরিবারভিত্তিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে এ কর্মসূচি কার্যকর অবদান রাখবে।

