প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
শ্রম আদালতের নির্দেশনায় পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নে নির্বাচন কমিশন গঠন: দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গতি
বিশেষ প্রতিনিধি মৌলভীবাজার।। ১০ জানুয়ারি ২০২৬ দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও নানা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মৌলভীবাজার জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের বহুল আলোচিত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিক গতি এসেছে। বিভাগীয় শ্রম আদালত, সিলেটের নির্দেশনা মোতাবেক মৌলভীবাজার জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিস্ট্রেশন নং– চট্র ১২২৩)-এর জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনের গণতান্ত্রিক ধারাকে কার্যকর করতে এবং সুষ্ঠু নেতৃত্ব নির্বাচনের পথ সুগম করতে এই নির্বাচন কমিশনকে গুরুত্বপূর্
ণ ভূমিকা পালন করতে হবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে কারা গঠিত কমিশনে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রফিকুল ইসলাম খান (রশিক), যিনি বিভাগীয় শ্রম আদালতের শ্রমিক প্রতিনিধি সদস্য। এদিকে সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মো. মুহিতুর রহমান হেলাল, সদস্য, আহ্বায়ক কমিটি, জেলা বিএনপি। কমিশনের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মো. জাকির হোসেন উজ্জ্বল, সভাপতি, জাতীয়তাবাদী যুবদল, মৌলভীবাজার জেলা। এছাড়া সহকারী সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আজিজুল হক সেলিম, সভাপতি, জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং– ২৩৫৯)। কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে— মো. এহিয়া খান (শ্রমিক প্রতিনিধি) মো. ইলিয়াছ মিয়া (শ্রমিক প্রতিনিধি) মো. জসিম উদ্দীন (শ্রমিক প্রতিনিধি) নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনায় পূর্ণ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গঠিত নির্বাচন কমিশন মৌলভীবাজার জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। সম্পাদকীয় মন্তব্য শ্রমিক সংগঠনগুলোকে কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল রাখতে নির্বাচন একটি অপরিহার্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হলে সংগঠনের ভেতরে অস্থিরতা, নেতৃত্ব সংকট এবং বিভাজনের সুযোগ তৈরি হয়। তাই নির্বাচন কমিশন গঠনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। এখন দেখার বিষয়—কমিশন কতটা নিরপেক্ষতা বজায় রেখে শ্রমিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্ব কাঠামোকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে পারে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংগঠনের ঐক্য ধরে রাখতে—সুষ্ঠু নির্বাচনই হোক মূল লক্ষ্য।

