প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানালেন মুন্সিবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রাহেল হোসেন
মৌলভীবাজারপ্রতিবেদন : রাজনগরের ৩ নম্বর মুন্সিবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাহেল হোসেন তাকে ঘিরে চলমান বিভ্রান্তিকর প্রচার ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। এতে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান, অতীত ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যান রাহেল হোসেন জানান, তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে। ২০০০ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে মুন্সিবাজার ছাত্রদলের কমিটিতে তিনি সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যার প
্রমাণও তার কাছে রয়েছে। পরবর্তীতে জীবিকার প্রয়োজনে তিনি প্রথমে লন্ডন ও পরে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করায় সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিপরীতে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি বিজয়ী হন, যা মূলত বিএনপির সমর্থক ভোট হিসেবেই বিবেচিত। মুন্সিবাজারের সাধারণ মানুষ তার প্রার্থিতা ও বিজয়ের প্রকৃত ইতিহাস ভালোভাবেই জানেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। চেয়ারম্যান আরও জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় দুই বছর তিনি কোনো এমপি বরাদ্দ বা উল্লেখযোগ্য সরকারি সহায়তা পাননি। সে সময় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ছিলেন নেছার আহমদ। ইউনিয়নের উন্নয়নের স্বার্থে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বাধ্য হলেও কখনোই আওয়ামী লীগের কোনো কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এ বিষয়ে কেউ প্রমাণ দেখাতে পারবে না বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন। বিগত জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে রাহেল হোসেন বলেন, তিনি কখনোই আন্দোলনের বিরোধিতা করেননি এবং এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব নয়। তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই তার নামে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক। সম্প্রতি সোনাটিকি এলাকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তার উপস্থিতি নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি বিএনপির মানুষ হিসেবেই নিজ উদ্যোগে সেখানে উপস্থিত হয়ে নেতার দোয়া নিয়েছেন। জেলা, উপজেলা বা ইউনিয়নের কোনো নেতা তাকে সেখানে নিয়ে যাননি এবং তার যাওয়ার বিষয়ে কেউ পূর্বে অবগতও ছিলেন না। বক্তব্যের শেষাংশে চেয়ারম্যান রাহেল হোসেন বিনয়ের সঙ্গে সবাইকে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মিথ্যা দিয়ে তার জনপ্রিয়তা নষ্ট করা যাবে না। সত্যের সাহস থাকলে সত্য দিয়েই লড়াই করার আহ্বান জানান তিনি।

