স্টাফ রিপোর্টার
শ্রীমঙ্গলে দেড় কোটি টাকার ওষুধের চালান গ্রহণে অনীহা, নেপথ্যে কী?
জনগণের চিকিৎসাসেবায় ব্যবহারের জন্য সরকারি অর্থে কেনা প্রায় দেড় কোটি টাকা বাজারমূল্যের ওষুধের চালান শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছেও গ্রহণ না করার ঘটনায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থে কেনা ওষুধ কেন গ্রহণ করা হলো না, সরবরাহে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো প্রশাসনিক বা কারিগরি জটিলতা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও উদ্বেগ। সরকারি হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ কেবল কেনাকাটা কিংবা চালান বুঝে নেওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রোগীর চিকিৎসা, জন
স্বার্থ এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রশ্ন। এমন পরিস্থিতিতে দেড় কোটি টাকার ওষুধের চালান গ্রহণ না করার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। প্রশ্ন উঠেছে, সরবরাহ করা ওষুধের গুণগত মান, মেয়াদ, সংরক্ষণব্যবস্থা কিংবা কার্যাদেশের শর্তে কোনো অসংগতি ছিল কি না। যদি সরবরাহে অনিয়ম বা শর্তভঙ্গের বিষয় থাকে, তবে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। আবার সব শর্ত পূরণ হওয়ার পরও যদি ওষুধ গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। তবে ওষুধ গ্রহণ না করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষকে দায়ী করার আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সরবরাহের শর্ত, ওষুধের মান পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য যাচাই করা অপরিহার্য। কারণ, প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনই এ ঘটনার বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সরকারি অর্থে কেনা ওষুধের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা। সরবরাহ নিয়ে বিরোধ বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে তার দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। অন্যথায় ওষুধের ব্যবহার ও বিতরণে বিলম্ব হলে এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ রোগীদের ওপর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাই কয়েকটি প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রত্যাশিত: ওষুধের চালানটি কেন গ্রহণ করা হয়নি? এ বিষয়ে কোনো লিখিত আপত্তি বা প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে কি না? ওষুধের গুণগত মান ও সরবরাহের শর্ত যাচাই করা হয়েছে কি না? আর এ ঘটনায় সরকারি অর্থের অপচয় কিংবা রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার কোনো আশঙ্কা রয়েছে কি না? দেড় কোটি টাকার ওষুধের চালান গ্রহণ না করার ঘটনা নিছক প্রশাসনিক জটিলতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে সরবরাহসংক্রান্ত গুরুতর কোনো অসংগতি—তা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নথিপত্র যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরা হোক। জনস্বার্থে প্রশ্ন একটাই—দেড় কোটি টাকার ওষুধ কেন গ্রহণ করা হলো না, আর এর দায় ও পরিণতি কী?

