মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
ঈদ-পরবর্তী যাত্রীসেবায় কড়াকড়ি: মৌলভীবাজারে মোবাইল কোর্টে ৭ মামলায় জরিমানা
ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো ও কর্মস্থলমুখী মানুষের যাতায়াতের চাপ শেষ হলেও যাত্রীসেবাকে স্বাভাবিক, নিরাপদ ও ভোগান্তিমুক্ত রাখতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে জেলা প্রশাসন। ঈদ-পরবর্তী সময়ে পরিবহন খাতে অনিয়ম, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি এবং সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রতিরোধে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় পরিচালিত হয়েছে বিশেষ তদারকি অভিযান ও মোবাইল কোর্ট। শনিবার (৩১ মে ২০২৬) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোকশেদ উল্লাহ
এবং মোহাম্মদ আবিদ হোসেন। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীসেবার মান পর্যবেক্ষণ, আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা এবং যাত্রীদের অধিকার নিশ্চিত করা। অভিযান চলাকালে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাস কাউন্টার ও পরিবহন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। এ সময় তারা পরিবহন মালিকপক্ষ, কাউন্টার ব্যবস্থাপক, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। যাত্রীদের কাছ থেকে সেবার মান, ভাড়া সংক্রান্ত অভিযোগ, টিকিট ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রাপথে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির বিষয়ে সরাসরি মতামত গ্রহণ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায়, টিকিট নিয়ে অনিয়ম, যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ কিংবা সড়ক পরিবহন আইন অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা পরিবহনসেবার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলেও সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়। অভিযানকালে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন বিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। আইন অমান্যের দায়ে মোট ৭টি মামলা দায়ের করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সর্বমোট ১০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যাত্রীদের অধিকার রক্ষা করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের অংশ। তাই পরিবহন খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে। শুধু জরিমানা নয়, সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবহনসেবাকে আরও জনবান্ধব করার উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে। অভিযানের সময় যাত্রীদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। কোনো পরিবহন প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে, টিকিট ছাড়া যাত্রী পরিবহন করলে অথবা অন্য কোনো ধরনের হয়রানি করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের আইন মেনে চলার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে আন্তরিক হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদ-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রুটে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের তদারকি ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হবে। বিশেষ করে যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নিয়মিত মনিটরিং ও আইন প্রয়োগের ফলে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সাধারণ যাত্রীরাও আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবহনসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে অনেক যাত্রী ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

