মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
ঝড়-নদী-ধাওয়া, শেষমেশ শিকলে রজব আলী: দুঃসাহসিক অভিযানে পুলিশের জয়
বৈশাখী ঝড়, উত্তাল নদী আর রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে অবশেষে গ্রেফতার হলো দীর্ঘদিনের পলাতক রজব আলী ডাকাত। মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের সাহসী, কৌশলী ও পরিকল্পিত অভিযানে শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে আথানগীরি এলাকায় তাকে আটক করা হয়। পুরো ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আথানগীরি এলাকার চান মিয়ার ছেলে রজব আলী (৪০)-এর বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে। তার নামে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থ
াকায় তাকে ধরতে বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হলেও সে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াত। শনিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর মডেল থানার একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে রজব আলী দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। ঠিক সেই সময় শুরু হয় তুমুল বৈশাখী ঝড়। প্রতিকূল আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে সে দৌড়ে পার্শ্ববর্তী গোপলা নদীর দিকে গিয়ে একটি নৌকায় উঠে পড়ে। তবে পালিয়ে বাঁচতে পারেনি। পুলিশ সদস্যরা মুহূর্তের মধ্যে নদীর দুই পাড় ঘিরে ফেলেন। এক পর্যায়ে কয়েকজন সদস্য সাহসিকতার সঙ্গে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ধরার চেষ্টা চালান। নদীর পানিতে তখন শুরু হয় এক নাটকীয় অভিযান। এ দৃশ্য দেখতে কাগাবালা বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ নদীর তীরে ভিড় জমায়। অনেকে মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর পুলিশ সদস্যরা অবশেষে রজব আলীকে আটক করতে সক্ষম হন। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। অভিযান টিমের সদস্য এসআই জয়ন্ত সরকার জানান, গ্রেফতারকৃত রজব আলীর বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে। আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে আটক করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে পলাতক ছিল। পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ অভিযানে তার সঙ্গে এএসআই রানা, এএসআই সাইদুর, এএসআই শাহীন, এএসআই জাহিদসহ প্রায় ১০ সদস্যের একটি বিশেষ টিম অংশ নেয়। ঝড়ো আবহাওয়া ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অভিযান সফল করেন। স্থানীয় সচেতন মহল মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, এমন চৌকস, সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ প্রমাণ করেছে, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তারা সবসময় প্রস্তুত। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই তৎপরতা সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের নাম হয়ে থাকা এই আসামি গ্রেফতার হওয়ায় মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী, ডাকাত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ধরতে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

