চট্টগ্রামে ভূমিকম্পে আতঙ্ক—বাসা কাঁপায় দৌড়ে নামলেন অনেকেই, বড় ক্ষয়ক্ষতি নেই
আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭, উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী। ভূমিকম্পের সময় ভবন দুলে ওঠায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ‘হঠাৎ টেবিল নড়ল, তারপর পুরো ভবন দুলতে লাগল’ চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আবুল মুনছুর বলেন,
“ভূমিকম্প হওয়ার সময় বাসায় ছিলাম। টেবিলে বসে উপন্যাস পড়ছিলাম। হঠাৎ টেবিলটা নড়ে উঠল। পরে দেখি ভবনটা দুলছে। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি।” ঘটনার পরপরই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন—“ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।” ‘খাটটা হঠাৎ দুলতে লাগল’ আরেক চাকরিজীবী, একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইমুম বলেন, “ছুটির দিনে বাসাতেই ছিলাম। হঠাৎ খাটটা নড়ে উঠল। কয়েক সেকেন্ড ধরে দুলতে থাকে। তখনই বুঝলাম ভূমিকম্প হয়েছে।” নগরবাসীর আতঙ্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিজ্ঞতা শেয়ার ভূমিকম্পের পরপরই নগরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভবন থেকে বের হয়ে সড়কে নেমে আসেন। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকায়। অনেকে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানাতে থাকেন। ‘ঘটনা কয়েক সেকেন্ডে শেষ, বড় দুর্যোগ হয়নি’ চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, যিনি হালিশহরে থাকেন, বলেন, “ভবনটা কাঁপছিল। তবে অল্প সময়েই থেমে গেছে। বড় কোনো দুর্যোগ হয়নি।” কোনো ভবন হেলে পড়েনি ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম নিয়ন্ত্রণকক্ষ জানিয়েছে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোথাও কোনো ভবন হেলে পড়া, ধ্বস বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের মাত্রা মাঝারি হলেও, ঘনবসতিপূর্ণ শহর হওয়ায় ভবিষ্যতে এমন কম্পনে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ভবন নির্মাণে নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
