মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
রমজানের পবিত্রতা নিয়ে ছিনিমিনি! সমশেরনগর মাজারে গান-বাজনা ঘিরে তীব্র ক্ষোভ
পবিত্র মাহে রমজান সংযম, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মাস। অথচ এই পবিত্র সময়েই মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার সমশেরনগর মাজার এলাকায় উচ্চস্বরে গান-বাজনার আয়োজন ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, রোজার মাসে এমন কর্মকাণ্ড শুধু অনভিপ্রেতই নয়, বরং ধর্মীয় পরিবেশকে সরাসরি ক্ষুণ্ণ করছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিয়াম সাধনার এই মাসে যখন মানুষ ইবাদত-বন্দেগি ও ধর্মীয় অনুশীলনে ব্যস্ত থাকার কথা, তখন মাজার প্রাঙ্গণে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা সাধারণ মানুষের ম
নে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি চরম অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ না পাওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ আরও বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনার পেছনে বিতর্কিত কিছু ব্যক্তির সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে কথিত কৃষক লীগ নেতা ইউসুফের নাম ঘুরে-ফিরে আলোচনায় আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি বর্তমানে নির্বাচনের দোহাই দিয়ে এলাকায় নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন এবং তার ছত্রছায়ায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে শুধু ধর্মীয় পরিবেশই নয়, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে আশ্রয় দেওয়ার কারণে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের দীর্ঘদিনের অবদান আজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সচেতন মহল কয়েকটি জোরালো দাবি উত্থাপন করেছেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে মাজার এলাকায় গান-বাজনা বন্ধ করে রমজানের ধর্মীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ইয়াছিনকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যারা এসব বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে এমন কর্মকাণ্ডের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর মতে, এখনই যদি এসব অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে দলের দীর্ঘদিনের সুনাম ও জনসমর্থন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই তারা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রত্যাশা—পবিত্র মাহে রমজানের মর্যাদা রক্ষায় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং সমশেরনগর এলাকায় শান্তিপূর্ণ, ধর্মীয় ও সম্মানজনক পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে। পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন সচেতন

