প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
সরকারি হাসপাতালের ভেতরে কিডনি চেয়ে স্টিকার, প্রশ্নবিদ্ধ আইনি বৈধতা
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি | কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য দাতার খোঁজে হাসপাতাল চত্বরে প্রচারণামূলক স্টিকার ঝুলানোর একটি ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আইনি বৈধতা ও নৈতিকতার বিষয়ে। ২৫ জানুয়ারি রাতে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভেতরে এমন স্টিকার চোখে পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্টিকারটিতে ‘O+’ রক্তের কিডনি দাতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে যোগাযোগ নম্বর দেওয়া রয়েছে। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ ধরনের ব্যক্তিগত প্রচারণা কতটা বৈধ—তা নিয়েই মূলত ব
িতর্ক। আইন কী বলে? বাংলাদেশে মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রিত হয় মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন, ১৯৯৯ (পরবর্তীতে সংশোধিত)। এই আইনে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে— অঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অঙ্গ দান শুধুমাত্র নিকটাত্মীয়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ (মা-বাবা, ভাই-বোন, সন্তান, স্বামী-স্ত্রী ইত্যাদি)। দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অঙ্গ সংগ্রহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোনো ধরনের প্রকাশ্য বিজ্ঞাপন বা প্রচারণার মাধ্যমে অঙ্গ দাতা খোঁজা আইনসিদ্ধ নয়, বিশেষ করে হাসপাতাল চত্বরে অনুমতি ছাড়া এমন কার্যক্রম। আইন অনুযায়ী, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পুরো প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ট্রান্সপ্লান্ট কমিটি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদনের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি হাসপাতাল একটি নিয়ন্ত্রিত এলাকা। এখানে অনুমতি ছাড়া পোস্টার, স্টিকার বা ব্যক্তিগত প্রচারণা ঝুলানো প্রশাসনিক বিধিমালারও লঙ্ঘন। এ ধরনের কার্যক্রম রোগীদের বিভ্রান্ত করতে পারে এবং অবৈধ অঙ্গ বাণিজ্যের ঝুঁকিও তৈরি হয়। মানবিকতা বনাম আইন কিডনি রোগীর অসহায়ত্ব নিঃসন্দেহে মানবিক সহানুভূতির দাবি রাখে। তবে সেই মানবিকতার সুযোগ নিয়ে যদি আইনবহির্ভূত পথ খোলা থাকে, তাহলে তা সমাজের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের বাইরে গিয়ে নয়—আইনের ভেতর থেকেই মানবিক সহায়তার পথ খুঁজতে হবে। প্রয়োজন সচেতনতা ও নজরদারি এ ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা এবং সাধারণ মানুষকে মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কিডনি রোগীদের জন্য রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়ানোর দাবিও উঠেছে।

