প্রতিবেদক: কায়কোবাদ
‘ঠিকাদারের সঙ্গে বিয়ে’ খবরটি নিজেই পরিবারের সবাইকে দেখিয়েছিলেন চাঁদনী
অভিনয়ে সবে ক্যারিয়ার এগোচ্ছিল অভিনেত্রী মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী। পরিচিতি বাড়লেও তখনো জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছাননি তিনি। ঠিক এমন সময়েই তাঁকে ঘিরে মিডিয়াপাড়ায় শুরু হয় তুমুল গুঞ্জন। একদিন হঠাৎ করেই পত্রিকায় প্রকাশিত হয় চাঁদনীর বিয়ে নিয়ে খবর। বিষয়টি জানার পর সেই পত্রিকাই পরিবারের সবার সামনে তুলে ধরেন তিনি নিজেই। অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে গসিপ হওয়া নতুন কিছু নয়। তবে ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুতেই বিয়ে নিয়ে গুঞ্জন—এটা চাঁদনীর জন্য ছিল পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে নিয়ে প্রথম গ
সিপ হয়েছিল অনেক আগে। তখন আমি গসিপের সঙ্গেই পরিচিত ছিলাম না। মাত্র এইচএসসি পাস করেছি, অনার্সে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছি। এমন সময় পত্রিকায় দেখি আমার বিয়ে নিয়ে খবর ছাপা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। সেটাই ছিল আমাকে নিয়ে প্রথম গুঞ্জন।’ সে সময় চাঁদনী থাকতেন যৌথ পরিবারে। বিয়ের ওই খবরটি তিনি মজার ছলেই পরিবারের সবাইকে দেখান। সেই স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি পত্রিকা নিয়ে বলছিলাম, কোনো এক ঠিকাদারের সঙ্গে নাকি আমার বিয়ে হয়েছে। এটা নিয়ে সবাই প্রচণ্ড হাসাহাসি করেছিল। এখনো স্পষ্ট মনে আছে, আমি নিজেই বিয়ের খবর দেখাচ্ছিলাম।’ যদিও চাঁদনী বিষয়টি হাস্যরসের সঙ্গে নিলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে এটি ছিল কিছুটা চিন্তার। কারণ, গুঞ্জন অনেক সময় ভুলভাবে বিশ্বাস করা হয় এবং তা ক্যারিয়ারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চাঁদনীর মা ছিলেন উদ্বিগ্ন। মেয়ের অভিনয়জীবন শুরু করানোর পেছনে তাঁর ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে বড়। গুঞ্জন প্রকাশের দিনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে চাঁদনী বলেন, ‘পরিবারের অনেকেই ভয় পাচ্ছিল—এটা আমার ক্যারিয়ারে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না। তখন মা পরিচিত ফটোগ্রাফার মহসিন ভাইকে ফোন করেন। বিয়ের ভুয়া খবরের কথা বললে তিনি বিষয়টিকে হালকাভাবে নিয়ে বলেন, “এখন বুঝতে পারছেন, আপনার মেয়ে তারকা হচ্ছে। গসিপ ছাড়া সেলিব্রিটি হওয়া যায় না।”’ আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি অভিনেত্রী মেহবুবা মাহনূর চাঁদনীর জন্মদিন। নাচ দিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হলেও নব্বইয়ের দশকে শিশু চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি শোবিজে পা রাখেন। পরবর্তী সময়ে অভিনয়ে দর্শকের নজর কাড়েন চাঁদনী। বর্তমানে নাচ নিয়েই বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি; অভিনয়ে তাঁকে এখন তুলনামূলক কম দেখা যায়।

