প্রতিবেদক: Muhit
প্রশাসনের চোখ রাঙিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন: ড্রেজারের গর্তে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্র নাইমের মর্মান্তিক মৃত্যু!
স্টাফ রিপোর্টার | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ইং মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় প্রশাসনের নিরবতার সুযোগে অব্যাহত অবৈধ বালু উত্তোলনের বলি হলো আরও একটি প্রাণ। কোটারকোনা ব্রিজসংলগ্ন মনু নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট গভীর গর্তে ডুবে মাদ্রাসা ছাত্র নাইম হোসেন (১৫) এর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত নাইম হোসেন কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কানাই দেশি গ্রামের হুসেন মিয়ার ছেলে। সে মাধবপুর মাদ্রাসার ছাত্র এবং কুলাউড়া উপজেলার কোটারকোন
া মাদ্রাসায় পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারিভাবে লিজকৃত এলাকা উপেক্ষা করে বছরের পর বছর ধরে প্রভাবশালী একটি মহল কোটারকোনা ব্রিজের পাশে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীর বুকে তৈরি হয়েছে মৃত্যুকূপের মতো গভীর গর্ত। প্রতি বছরই এখানে ঘটে দুর্ঘটনা, অথচ প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। শুক্রবার সকালে নাইম তার আরও তিন বন্ধুর সঙ্গে মনু নদীতে গোসল করতে নামলে হঠাৎ একটি গভীর গর্তে তলিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা কোনোরকমে উঠে আসতে পারলেও নাইম নিখোঁজ হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি অবৈধ বালু উত্তোলনের সরাসরি ফল।” এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীপাড়ের রাস্তার অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ওই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন একটি স্কুল ও একটি কলেজের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। ভারী গাড়িতে করে যেভাবে বালু পরিবহন করা হচ্ছে, তাতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে আরও বড় দুর্ঘটনা। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, “ আজ নাইম, কাল হয়তো আরেকজন। প্রশাসনের এই নিরবতা আর কত প্রাণ নেবে?” এলাকাবাসী স্কুলগামী ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কোটারকোনা এলাকার বালুর অবৈধ ইজারা ঘাট স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। ❗ প্রশ্ন থেকে যায়—একজন শিক্ষার্থীর প্রাণ গেল, তবু কি প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে না?

