প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
লন্ডন প্রবাসীর বাসা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কৃষক দলের আহবায়কের ভাতিজীর উপর
মৌলভীবাজারে লন্ডন প্রবাসীর বাসা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কৃষক দলের আহবায়কের ভাতিজীর উপর। বাসার দলিলে স্বামীর নাম না থাকার পরও শ্বশুরের মৌরসী বাসার দাবী নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর দ্বন্ধে উত্তপ্ত মৌলভীবাজারের দক্ষিণ কলিমাবাদ। যেকোন সময় ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা। স্বামী কাইয়ুমুর রহমান ইকবাল তার মৌরসী সম্পদের বাটোয়ারা মতে অন্য বাসা পেয়েছেন জানানোর পরও গত ১৯ ডিসেম্বর তার স্ত্রী সাফিয়া সুলতানা সাফা তার চাচা আখাইলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কৃষক দলের আহবায়ক শামীম আহমদকে নিয়ে বাসা দখলের চেষ্ট
া করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে চেয়ারম্যান বলছেন, ঐ দিন ভাতিজিকে নির্যাতনের খবর পেয়ে দক্ষিণ কলিমাবাদ বাসায় গিয়েছিলেন। গত শুক্রবার ১৯ ডিসেম্বর স্ত্রী সাফিয়া সুলতানা সাফা দক্ষিন কলিমাবাদ "রহমান ভিলা", ৪১/৭,বাসায় এসে বাসাটি শ্বশুরে নামের ছিল বিধায় তার স্বামীর বলে দাবী করেন। এ সময় সোস্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। দেখা যায় বাসার ভিতর তার স্বামী অবস্থান করে বাসায় তার কোন প্রকার মালিকানা নেই বলার পর তার স্ত্রী ও সাথে আসা লোকদের সাথে ঝগড়া বেঁধে যায়। তার চাচা আখাইলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কৃষক দলের আহবায়ক শামীম আহমদ সাথে ছিলেন। পরবর্তীতে স্বামী কাইউমুর রহমান বাসা তালা মেরে ভিতরে অবস্থান নেন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। মৌলভীবাজার সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের মামলা ও মামলার বাদী সোলেনামা দিয়ে নিস্পত্তি সংক্রান্ত কাগজ পত্র থেকে জানাযায়, বরমান গ্রামের লন্ডন প্রবাসী আব্দুর রহমান,২০০৬ সালে ১৭১০.০৬ দলিল মুলে দক্ষিন কলিমাবাদ ১০.৭৭শতক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে ৪৮৬৪ নং হেবা মুলে উনার মেয়ে জেবুন্নেছা খানম ও ২০১১ সালে ৩৪৩১ নং হেবা মুলে দলিল করে দেন উনার ৩য় ছেলে মুহিবুর রহমানকে । ২০২২ সালে তাদের ভাই ইমজি রহমান কে তার বোন জেবুন্নেছা খানম ও ভাই মুহিবুর রহমান তাদের মালিকানা বাসা থেকে ৫ শতক জমি দলিল করে দেন। পরবর্তীতে তাদের আরেক ভাই কাইয়ুমুর রহমান ইকবাল কে ভাই মুহিবুর রহমান. ৪৮০শতক বাসার জমি ক্রয় করে দেন। পিতা আব্দুর রহমান লন্ডনে মারা যাবার পর কাইয়ুমুর রহমান ইকবাল মৌলভীবাজার সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ৩৯/২০২৫ নং স্বত্ব মামলা করেন কাইয়ুমুর রহমান ইকবাল। পরে মামলার বিরোধীয় বিষয় আপোষ হওয়ায় মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন ও পিতা আব্দুর রহমানের হেবা দলিল সঠিক বলে সোলেনামা আদালতে দাখিল করা হয়। কিন্তু কাইয়ুমুর রহমান ইকবাল এর স্ত্রী সাফিয়া সুলতানা সাফা বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি । তিনি ১৯ ডিসেম্বর তার মেঝো চাচা আখাইলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কৃষক দলের আহবায়ক শামীম আহমদ সহ কিছু সন্ত্রাসী নিয়ে বাসা দখলের চেষ্টা চালান। তার দাবী বাসা তার লন্ডন প্রবাসী মৃত শ্বশুর আব্দুর রহমানের নামে আছে। এই বাসায় তার স্বামী কাইয়ুমুর রহমান ইকবাল এর স্বত্ব রয়েছে। কিন্তু কাইয়ুমুর রহমান ইকবাল বিষয়টি পরিস্কার করে বলেন, এই বাসায় তার কোন স্বত্ব নাই। এক সময় তিনি ভুল বশত অন্যের প্ররোচনায় তার ভাই বোনের নামে মামলা দিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে কাইয়ুমুর রহমান ইকবাল এর স্ত্রী সাফিয়া সুলতানা সাফার মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। কাইয়ুমুর রহমান ইকবাল বলেন, বাসা আমার ২ ভাই ও ১ জন বোনের। আমার বাপ ও ভাই মিলে আমাকে আলাদা বাসা দিয়েছেন। আখাইলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কৃষক দলের আহবায়ক শামীম আহমদ এর ভাতিজী বিয়ে করে আমি বড় বিপদে আছি। আমি আমার ভাই বোনের সাথে বাসার ঝামেলা শেষ করে ফেলেছি আমাদের মধ্যে সমঝোতা হয়ে গেছে । যেখানে আমার স্বত্ব নাই। আমার স্ত্রী কিভাবে দাবী করে। এসবকিছু আমার শ্বশুর বাড়ির চক্রান্ত। কাইয়ুমুর রহমান ইকবালের ভাই প্রবাসী ইমজি রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বাসা নিয়ে একটা প্রবলেম চলছে। কাইয়ুমুর রহমান ইকবালের স্ত্রী সাফিয়া সুলতানা সাফা তার চাচা শামীম আহমদ সাবেক চেয়ারম্যান মিলে আমার বাসা দখল করতে চাচ্ছে। ৫ বছর আগে আমার আব্বা দেশে গিয়ে ৬০ লাখ টাকা দিয়ে আমার ভাইকে একটা বাসা কিনে দিয়েছেন। ইকবালের স্ত্রী তারা ঔ বাসা বিক্রি করে ফেলেছে। এখন বলছেন আরোও ৪০ লাখ টাকা দিলে আমাদের বাসার দখল ছেড়ে দিবে মৌলভীবাজার মডেল থানার এস আই রানা মিয়ার সাথে কথা বললে সবকিছু জানতে পারবেন। আখাইলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির কৃষক দলের আহবায়ক শামীম আহমদ মুঠোফোনে বলেন, আমি অন্য বাসা দখল করতে যাবো কেন? কাইয়ুমুর রহমান ইকবাল একটি খারাপ ছেলে। আমার ভাতিজীকে নির্যাতন করার কারনে তালাক নেওয়ার চেষ্টা করেছি। ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার আমার ভাতিজীকে তার স্বামী ইকবাল বাহিরে লোক নিয়ে এসে নির্যাতন করেছে শুনে আমি দেখতে গিয়েছিলাম তার বাসায়। আজ থেকে ওদের সাথে কোন সম্পর্ক রাখবো না। বিএনপির কৃষক দলের দাপট দেখানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোন দলের ক্ষমতা ও দাপট দেখাইনি, এ গুলো সম্পর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। মৌলভীবাজার মডেল থানার এস আই রানা মিয়া বলেন লন্ডন প্রবাসী ইমজি রহমান এর বাসা। ইকবালকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এই বাসাটা কার,সেই বলছে লন্ডন প্রবাসী ইমজি রহমানের বাসা। আমার ভাই অন্য একটি বাসা কিনে দিয়েছে আমার স্ত্রী আমার ভাইয়ের বাসা ছেড়ে যেতে চাইতেছেনা। আমি বিষয়টা সাবেক চেয়ারম্যান শামিম আহমদকে ডেকে নিয়ে জানতে চাইলাম,তিনি আমাকে সঠিক উত্তর না দিয়ে চলে গেলেন। মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, একবার আমার কাছে বিচার নিয়ে ২ পক্ষ এসেছিলো। পরে আর বসেনি। বিএনপি কৃষক দলের আহবায়ক শামীম আহমদ এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,শামিম আহমদকে আপনারা জিজ্ঞাসা করেন। আমরা শুনিনি,মানুষরা এলোমেলো ভাবে কথা বলছে। কিন্তু গভীর ভাবে কেউ আমাদেরকে বলেনি। মৌলভীবাজার মডেল থানা ওসি মোঃ সাইফুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন এ বিষয় আমার জানা নেই ,জেনে পরে আপনাকে জানাবো। দুই দিন অতিবাহিত হলেও এখন পযন্ত আর কিছু এ বিষয় জানানি।

