প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
ঘুষের দেয়াল ভেঙে যা বেরিয়ে এলো: কমলগঞ্জ ভূমি অফিসে অনিয়মের আরও অনুসন্ধান
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: ঘুষের দেয়াল ভেঙে যা বেরিয়ে এলো: কমলগঞ্জ ভূমি অফিসে অনিয়মের আরও অনুসন্ধান কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি ও ভূমি রেকর্ড সংশোধন নিয়ে ওঠা অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগ শুধু বিচ্ছিন্ন কিছু ভুক্তভোগীর বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ নয়—আরও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে একটি সুসংগঠিত ও দীর্ঘদিনের দুর্নীতির চিত্র। অনুসন্ধানে জানা যায়, আবেদন গ্রহণের পরপরই অনেক আবেদনকারীকে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় “খরচের কথা” জানানো হয়। কেউ বিষয়টি বুঝে নেন, কেউ আবার না বুঝলে ফাইল আটকে যায়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অগ্রগতি
না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আবেদনকারীদের অফিস সহায়ক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে বাধ্য করা হয়। সেখানেই নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার কথা বলা হয়—যা না দিলে ফাইল নড়ে না। একাধিক সূত্র জানায়, নামজারি কিংবা খতিয়ান সংশোধনের মতো সাধারণ সেবা দ্রুত পেতে হলে ‘অঘোষিত ফি’ যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। টাকা দিলে কাজ হয়, না দিলে কাগজে ত্রুটি, নথি অসম্পূর্ণ কিংবা সার্ভে জটিলতার অজুহাতে মাসের পর মাস আবেদন ঝুলে থাকে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অনেক ভুক্তভোগী মুখ খুলতে চান না। ভূমি সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় ভবিষ্যতে হয়রানির আশঙ্কা, কিংবা কাজ পুরোপুরি আটকে যাওয়ার ভয়ে তারা নীরব থাকছেন। এই নীরবতাই দুর্নীতিকে আরও শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতনরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সেবা সহজীকরণের কথা বলা হলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে পুরোনো দুর্নীতির সংস্কৃতি এখনো বহাল। এতে সাধারণ মানুষ শুধু আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তই নয়, মানসিকভাবেও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীলদের বক্তব্য পেতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্যগুলো প্রশাসনের জন্য স্পষ্ট বার্তা বহন করছে। সচেতন মহলের দাবি—কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি ও রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত সব আবেদন খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়েই কেবল সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

