প্রতিবেদক: তারফদার মামুন
জান্নাতের ধনভাণ্ডারের এক অমূল্য জিকির
ইসলামে আল্লাহর জিকিরের গুরুত্ব অপরিসীম। অসংখ্য জিকিরের মধ্যে এমন কিছু বাক্য রয়েছে, যা শুধু মুখে উচ্চারণের মাধ্যমেই বান্দার ঈমানকে দৃঢ় করে, হৃদয়ে ভরসা জাগায় এবং আখিরাতের পাথেয় হয়ে ওঠে। তেমনই এক মহামূল্যবান জিকির হলো— لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ উচ্চারণ: লা হাওলা ওয়া লা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ। অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই। রাসুলুল্লাহ ﷺ এই জিকিরকে জান্নাতের ধনভাণ্ডারের একটি ধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সাহাবি আবু মুসা আশআরি (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি ﷺ তাঁকে বলেছি
লেন—তিনি কি জান্নাতের ধনভাণ্ডারের একটি ভাণ্ডারের কথা জানাতে চান? সম্মতি জানালে নবীজি ﷺ এই জিকিরটি পাঠ করতে বলেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম) এই সংক্ষিপ্ত বাক্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে বান্দার পূর্ণ আত্মসমর্পণ। মানুষ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে—নেক কাজ করা, গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা, ধৈর্য ধারণ কিংবা ঈমানের ওপর অটল থাকার জন্য—সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর সাহায্যের মুখাপেক্ষী। নিজের শক্তি, যোগ্যতা বা সামর্থ্যের ওপর ভরসা না করে এই জিকির মানুষকে শেখায় প্রকৃত নির্ভরতা কেবল আল্লাহর ওপরই হওয়া উচিত। এর অর্থ দাঁড়ায়—আল্লাহর সাহায্য ছাড়া পাপ থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই, নেক আমল করারও কোনো শক্তি নেই। বান্দার যতটুকু শক্তি, ধৈর্য বা সক্ষমতা—সবই তার প্রতিপালকের দান। আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া হেদায়াত লাভ, দ্বীনের পথে অবিচল থাকা কিংবা জান্নাতে প্রবেশ—কোনোটিই সম্ভব নয়। আরেকটি হাদিসে নবীজি ﷺ আরও একটি জিকিরের ফজিলতের কথা উল্লেখ করেছেন। যে ব্যক্তি পাঠ করবে— لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ। অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহর সাহায্য ছাড়া পাপ থেকে মুক্তি নেই, আল্লাহর সহায়তা ছাড়া ইবাদতের শক্তি নেই। হাদিসে এসেছে, কারও গুনাহ যদি সমুদ্রের ফেনার মতো বিপুলও হয়, এই জিকিরের বরকতে আল্লাহ তাআলা তা ক্ষমা করে দেন। (সুনানে তিরিমজি) অতএব, ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে ফাঁকে এই জিকিরকে নিজের সঙ্গী করে নেওয়াই হতে পারে মুক্তির পথ। এতে যেমন অন্তর প্রশান্ত হয়, তেমনি বান্দা শিখে যায়—সব ক্ষমতা ও শক্তির উৎস একমাত্র আল্লাহ তাআলাই।

