প্রতিবেদক: স্টাফ রিপোর্টার
পানশী রেস্টুরেন্টের ‘প্যাকেজ বিল’ বিতর্ক—না খাওয়া খাবারের বিল দিতে বাধ্য কাস্টমার
স্টাফ রিপোর্টার|মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার শহরের আলোচিত খাবার প্রতিষ্ঠান পানশী রেস্টুরেন্টে কাস্টমার হয়রানি ও অস্বচ্ছ বিলিং পদ্ধতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্ডার না করা ও না খাওয়া খাবারের বিল কাস্টমারের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বিব্রত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন ভুক্তভোগী কাস্টমার মোবারক হোসেন। ঘটনাটি ঘটে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে, যখন মোবারক হোসেন নাস্তা করতে পানশী রেস্টুরেন্টে যান। তিনি ওয়েটারকে ডেকে বিফ খিচুড়ি অর্ডার দেন। তবে ওয়েটার ভুল করে চিকেন খিচুড়ি এনে দেন
। বিষয়টি জানালে ওয়েটার বলেন—“স্যার, একটা বিফ দিয়ে দিই।” পরে তিনি সম্মতি দিলে খাবার গ্রহণ করেন। করে এ বিষয়ে ওয়েটারকে জানালে তিনি বলেন, তাদের রেস্টুরেন্টে বিফ খেলে ‘প্যাকেজ বিল’ হয়, যার মধ্যে ডাল-ভাতসহ হিসাব করা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ কাস্টমার ডাল-ভাত না খেলেও বিল দিতে হবে। এ নিয়ে আপত্তি তুললে তাকে ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে বলা হয়। ম্যানেজারের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করলে তিনিও একই বক্তব্য দেন— “এটাই আমাদের নিয়ম, বিফ খেলে ডাল-ভাতসহ প্যাকেজ বিল হবেই।” ভুক্তভোগী কাস্টমার মোবারক হোসেন ডাল-ভাতের বিল বাদ দিয়ে হিসাব করতে অনুরোধ করলেও কর্তৃপক্ষ তা মানতে রাজি হয়নি। পরে তিনি বলেন, যেহেতু ডাল-ভাতের দাম নেওয়া হচ্ছে তাই সেটি পার্সেল করে দেওয়া হোক। কিন্তু কর্তৃপক্ষ জানায়—“টেবিল অর্ডার পার্সেল হয় না।” কাস্টমার পরে আরও অনুরোধ করেন, তাহলে ডাল-ভাত টেবিলে দেওয়া হলে তিনি খেয়ে নেবেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতেও সম্মত হয়নি। অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় রেস্টুরেন্টে থাকা প্রায় ১৫/২০ জন ব্যক্তি একসাথে নানা মন্তব্য করতে থাকেন এবং একটি চাপ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় মোবারক হোসেন বাধ্য হয়ে না খাওয়া খাবারের বিলসহ সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করে রেস্টুরেন্ট ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের অস্বচ্ছ ও জোরপূর্বক বিলিং ব্যবস্থা কাস্টমারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে। একইসাথে প্রশ্ন উঠেছে—রেস্টুরেন্টে যদি প্যাকেজ বিল ব্যবস্থা থাকে, তবে অর্ডারের সময় তা আগেভাগে স্পষ্টভাবে জানানো হয় না কেন? এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কাস্টমার মোবারক হোসেন জানান, ঘটনার পর তিনি বিষয়টি নিয়ে মৌলভীবাজার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

