তিন মাসে কোটিপতি হয়ে গেলেন রাজনগর উপজেলা পরিষদের সিএ অনুপ দাস!
চেক জালিয়াতি ও প্রতারণায় তোলপাড় প্রশাসনে নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজনগর উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম–কম্পিউটার অপারেটর অনুপ দাস অল্প সময়ে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন—এমন তথ্য সামনে আসতেই উপজেলা প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মৌলভীবাজারের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেনের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে রাজনগর উপজেলা পর
িষদের ক্যাশবই ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট পর্যালোচনার সময় এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে। তিন মাসে আত্মসাৎ ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে নিয়োগ পাওয়া অনুপ দাস সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বড়লেখা উপজেলায় বদলি হন। কিন্তু বদলি হওয়ার আগের মাত্র চার মাসেই তিনি ১ কোটি ৫১ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেন। তদন্তে উঠে আসে— হাট-বাজার তহবিল থেকে: ৮০ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা রাজস্ব তহবিল থেকে: ৪০ লাখ টাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে: ৩১ লাখ টাকা এসব অর্থের একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত নামে নগদ উত্তোলন করা হয় এবং বাকিটা তার নিজের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। চেক জালিয়াতির কৌশল পরিষদের একটি সূত্র জানিয়েছে, অনুপ দাস নির্ধারিত চেকে খালি জায়গা রেখে ইউএনও’র স্বাক্ষর নিতেন। স্বাক্ষরের পর সেই খালি স্থানে বাড়তি সংখ্যা বসিয়ে চেকের অঙ্ক কয়েক গুণ বাড়িয়ে নিতেন। একই কৌশলে বদলির পর বড়লেখা উপজেলাতেও ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। প্রশাসনে প্রশ্ন ও সন্দেহ চার মাসে এতো বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরও বিষয়টি দীর্ঘদিন প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গেল—এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যম মহলে। অনেকেই মনে করছেন, এই দুর্নীতিতে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারেন। মৌলভীবাজারের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোসা. শাহিনা আক্তারের তদন্তেও অনুপ দাসের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। দায় এড়াচ্ছে সংশ্লিষ্টরা ঘটনা জানার জন্য সাঁট মুদ্রাক্ষরিক অনুপ দাসের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। একইভাবে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ফাতেমা তুজ জোহরার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। এখন অপেক্ষা—কঠোর আইনি ব্যবস্থার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তর। এ নিয়ে স্থানীয়দের দাবি—এমন জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
