মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর আদালতে উল্লাস, হাততালি — শেখ হাসিনার রায় নিয়ে দেশজুড়ে উত্তেজনা
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আদালতকক্ষে উল্লাস, চিৎকার ও হাততালিতে ফেটে পড়ে উপস্থিত জনতা। সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, বিচারকদের রায় ঘোষণার মুহূর্তে অনেকেই দাঁড়িয়ে করতালি দিচ্ছেন। ৭৮ বছর বয়সী এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিতিতেই বিচারাধীন ছিলেন। ২০
২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর তিনি ভারতে নির্বাসনে রয়েছেন। মারণঘাতী দমন–পীড়নের নির্দেশদাতা হিসেবে দোষী সাব্যস্ত ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, বিতর্কিত কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমন করতে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের “মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান নির্দেশদাতা” ছিলেন শেখ হাসিনা। অভিযোগপক্ষ আদালতকে জানায়, তারা এমন প্রমাণ পেয়েছে যা দেখায়—হাসিনা সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার ফলে তিন সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভে শত শত মানুষ মারা যায়। অভিযোগপক্ষ একে “বাংলাদেশের সমকালীন ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়” হিসেবে বর্ণনা করে। ১৯৭১ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা জাতিসংঘের তদন্তে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়। অধিকাংশের মৃত্যু নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে। আহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়ায়। জাতিসংঘ বলেছে, এটি মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা ছিল। হাসপাতালগুলো উপচে পড়ে, কারফিউ জারি হয় এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে রণক্ষেত্রের মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়। এই দমন–পীড়নের ফলেই শেষ পর্যন্ত পতন ঘটে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের, যা দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচার, গুম, নির্যাতন ও ভিন্নমত দমনের অভিযোগে সমালোচিত ছিল। মাসব্যাপী বিচারপ্রক্রিয়ার পর ঘোষণা মৃত্যুদণ্ডের মাসের পর মাস ধরে চলা এ মামলায় শতাধিক সাক্ষীর জবানবন্দি, হাজারো পৃষ্ঠার প্রমাণ–নথি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক আইজিপিকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। নাটকীয় এই মোড়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ—২০১০ সালে শেখ হাসিনার সরকারই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন ও সম্প্রসারণ করেছিল। সেই আদালত, যাকে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল, আজ তাকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। রায়ের আগে–পরে উত্তেজনায় দেশ, বিস্ফোরণ–আগুনঝড় ছড়িয়ে পড়ছে রায়ের আগের কয়েকদিনে দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অন্তত ৩০টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং ২৬টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ের ঘটনা ঘটে। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার সমর্থকরা রায় মেনে নেবে না এবং নতুন সহিংসতার ঢেউ শুরু হতে পারে, বিশেষত আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসায়।
