রাজনগর উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে দেড় কোটি টাকা ‘উধাও’
হিসাব চাইছে ক্ষুব্ধ জনতা, দৃষ্টি আকর্ষণ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার ব্যয়ের গরমিল ও নথিগত অসঙ্গতির অভিযোগ এলাকায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সরকারি নথিতে কোটি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবতা অস্বীকার করছেন স্থানীয়রা। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এত বিপুল
অর্থের সঠিক হিসাব কোথায়? কাগজে কোটি টাকার প্রকল্প—মাঠে নেই দৃশ্যমান প্রয়োগ সাম্প্রতিক অর্থবছরের প্রকল্প পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে একাধিক অসঙ্গতি— কোটি টাকার প্রকল্পে কাজ হয়েছে অল্প, আগের সম্পন্ন কাজ নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখানো, ‘সম্পন্ন’ দেখানো বেশ কিছু প্রকল্পের মাঠে কোনো অস্তিত্ব নেই, অনেক ব্যয়ের বিপরীতে নেই সঠিক বিল-ভাউচার বা নথিপত্র। উপজেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ বিভিন্ন নথিতে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। ব্যয়ের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যাচ্ছে না।” তদন্তে ধীরগতি—স্থির অবস্থা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হলেও এখনো প্রকাশ হয়নি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান— “নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে; প্রমাণ মিললে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।” কিন্তু তদন্তের এই ধীরগতি এবং অস্পষ্ট মন্তব্য স্থানীয়দের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা মনে করছেন— “এভাবে ধীরে চললে সত্য সামনে আসতে সময় আরও দীর্ঘ হবে, আর অনিয়মকারীরা সুযোগ পাবে গা-ঢাকা দেওয়ার।” ক্ষুব্ধ জনতার দাবি: সব হিসাব প্রকাশ করুন রাজনগরের সচেতন জনগণ স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত তহবিল থেকে দেড় কোটি টাকার গরমিল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে তিনটি দাবি তুলেছেন— সব প্রকল্পের বিল-ভাউচার, ব্যাংক হিসাব ও নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশ। মাঠের কাজের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ও বাস্তবতা যাচাই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ স্থানীয় জনসাধারণ বলছেন— “রাজনগরের এই অনিয়ম শুধু উপজেলার সুনামকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং জনস্বার্থের প্রতি চরম অবহেলার উদাহরণ সৃষ্টি করছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্য উদঘাটনে জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ জরুরি।” শেষ প্রশ্নটি এখনো একই— “দেড় কোটি টাকা কোথায় গেল? জনগণের সামনে পুরো সত্য প্রকাশ করতেই হবে।”
