ঐশী বনাম মিথিলা: বাংলাদেশের নারীর “রিপ্রেজেন্টেশন” নিয়ে বিতর্ক
২০১৮ সালে ঐশী দেখিয়ে গেছিল— বাংলাদেশের মেয়েরা শুধু গ্ল্যামার, শরীর-শো বা ক্যামেরার ঝলমলে আলোতে সীমাবদ্ধ নয়। একটা সিম্পল শাড়ি বা সালোয়ার আর নিজের ব্যক্তিত্ব দিয়েই তিনি পুরো দেশের মানুষকে মুগ্ধ করতে পারে—এটাই প্রমাণ করে গেছিল। ক্যামেরা, আলো, মেকআপের ওপর ভরসা না করে, ঐশী ভরসা করেছিল নিজের ওপর। এটাই আসল রিপ্রেজেন্টেশন—নিজের দেশের কালচার, নিজের পরিচয়কে
সামনে রেখে। কিন্তু ২০২৫ সালে পরিস্থিতি কি বদলেছে? আজকের রিপ্রেজেন্টার হিসেবে যিনি আলোচনায়, তানজিয়া জামান মিথিলা, মনে করেন— “ড্রেস যত কম, রিপ্রেজেন্টেশন তত বেশি!” অদ্ভুত ব্যাপার! রিপ্রেজেন্টেশন এখন কি শুধু ড্রেসের ইনডেক্সে পরিমাপ করা হবে? বাংলাদেশের কালচার দেখানোর বদলে মনে হয়, শুধু শারীরিক আকর্ষণ দেখালে আন্তর্জাতিক লেভেলে স্কোর বাড়ে। একদিকে ঐশী—কালচারকে তুলে ধরে, নিজের মতো থাকে। আরেকদিকে নতুন ট্রেন্ড—গ্ল্যামার, বিকিনি, এক্সপোজ—এইসবের মধ্যে ‘ওয়াও ফ্যাক্টর’ খোঁজা। যদি এই দুই সাইড একসাথে দেখি, বোঝা যায়— কোনটা আসল “রিপ্রেজেন্টেশন”, আর কোনটা শুধু “ট্রেন্ডিং হওয়ায় ভবিষ্যৎ বাংলাদেশী নারীদের উলঙ্গ করার প্রচেষ্টা”। ঐশী প্রমাণ করে গেছিল— ব্যক্তিত্ব থাকলে পোশাক কোনো বাধা নয়। আর আজকের মিথিলা মনে করে— পোশাকই যদি সব হয়ে যায়, ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন কি হারিয়ে যাচ্ছে?
