প্রতিবেদক: MA Muhit
শমশেরনগর বাজারে নৈরাজ্যকর যানজট: প্রশাসনিক উদাসীনতায় জনদুর্ভোগ চরমে!
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র শমশেরনগর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ভয়াবহ যানজট এখন নিয়মিত দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন রাস্তার দুই পাশে অবাধে ও যত্রতত্র যানবাহন পার্কিংয়ের ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকছে। অথচ এই অব্যবস্থাপনা দেখার যেন কেউ নেই। উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ শমশেরনগর বাজার চৌমুহনায় পাঁচটি সড়কের সংযোগ। এই চৌমুহনা দিয়েই চাতলাপুর শুল্ক স্থলবন্দর হয়ে ভারতের ত্রিপুরা ও কৈলাশহরের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি শমশেরনগর–কুলাউড়া, শ
মশেরনগর–শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ এই পথের ওপর নির্ভরশীল। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক ব্যবস্থাপনা থাকলেও এখানে কার্যত কোনো ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নেই। সড়কের দুই পাশে সিএনজি-অটোরিকশা স্ট্যান্ড, টমটম ও ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশার দখলে পড়ে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। বিশেষ করে শমশেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে হাজী মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত এলাকা এবং চাতলাপুর রোড অংশে প্রায় সারাক্ষণই যানজট লেগে থাকে। ফলে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই এলাকার মধ্যেই রয়েছে শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিট, রেলস্টেশন, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ব্যাংক, পোস্ট অফিস, চা-বাগান এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি দপ্তর। এতসব প্রতিষ্ঠানের কর্মরত মানুষ প্রতিদিন চোখের সামনে এই বিশৃঙ্খলা দেখলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ি বাজারের মাত্র কয়েক ফুট দূরত্বে অবস্থিত থাকলেও যানজট নিরসনে তাদের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের এই নীরবতা ও উদাসীনতাই যানজটকে স্থায়ী রূপ দিয়েছে। এই অব্যবস্থাপনা শুধু স্থানীয়দের ক্ষোভের কারণ নয়, শমশেরনগরে আগত পর্যটকদের কাছেও এলাকার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক ও পর্যটন এলাকাকে এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে ছেড়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ অবস্থায় শমশেরনগরের সচেতন নাগরিকরা জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছেন—অবিলম্বে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ, নির্দিষ্ট যানবাহন স্ট্যান্ড নির্ধারণ, নিয়মিত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং দায়সারা মনোভাব পরিহার করে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় এই দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে, যার দায় এড়াতে পারবে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

