দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবন শেষে আবেগঘন পরিবেশে বাড়ি ফিরলেন কমলগঞ্জের বিডিআর সিপাহি প্রবীর সিংহ
বহু প্রতীক্ষার পর অবশেষে দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবন পেরিয়ে মুক্তির আনন্দ নিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার উত্তর বালিগাঁও গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরেছেন বিডিআর সিপাহি প্রবীর সিংহ। বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় সাজা প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরদিন বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রবীর সিংহকে বাড়িতে পৌঁ
ছাতে দেখেই গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আবেগের ঢেউ। প্রবীর সিংহ কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর বালিগাঁও গ্রামের লখিন্দর সিংহের একমাত্র ছেলে। ছেলের মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামের মানুষজন দলে দলে ছুটে আসে তাকে এক নজর দেখতে। কারাগার থেকে বাড়িতে ফিরতেই কেউ তার হাত ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন, কেউবা নীরবে তাকিয়ে থাকেন—হারানো দিনগুলোর স্মৃতি যেন সবার চোখেমুখে। বাড়ির উঠানে প্রবেশের মুহূর্তটি ছিল হৃদয়বিদারক। বাবা লখিন্দর সিংহের কোলে ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রবীর। পাশে থাকা স্বজনরাও আবেগ সামলাতে পারেননি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, দুঃখ আর অনিশ্চয়তার বাঁধ ভেঙে যেন আনন্দের অশ্রুতে ভিজে ওঠে পুরো পরিবেশ। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রবীর সিংহ খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় এলাকায় কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ মার্চ স্কাউটিং কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঠিক সেই সময় ঘটে পিলখানার মর্মান্তিক বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শুরু হয় দীর্ঘ কারাজীবনের অধ্যায়। মুক্তির পর বাবা লখিন্দর সিংহ আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “১৭ বছর পর আমার ছেলে ঘরে ফিরেছে। কত অপেক্ষা করেছি এই দিনের জন্য—তা কাউকে বোঝানো সম্ভব নয়। ভগবানের কৃপায় জীবিত অবস্থায় তাকে আবার কোলে পেলাম।” এদিকে, গত মঙ্গলবার বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ৩৫ জন জামিনে মুক্তি পান। এর মধ্যে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১ জন, কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ থেকে ২ জন এবং পার্ট-২ থেকে ৩২ জন মুক্তি পেয়েছেন। কারাফটকে প্রিয়জনকে পেয়ে অনেক পরিবারেই তৈরি হয়েছিল একই রকম আবেগঘন দৃশ্য। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাড়িতে ফিরে প্রবীর সিংহের পদচারণায় আজ উত্তাল উত্তর বালিগাঁও গ্রাম—যেখানে কান্না, স্বস্তি, ভালোবাসা আর ফিরে পাওয়ার আনন্দ মিলেমিশে সৃষ্টি করেছে এক অমলিন স্মৃতি।
