মানব জীবনের হতাশা ও চ্যাটজিপিটির আশ্রয়
আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে মানুষ মানসিক ও সামাজিক চাপে ভুগছে। কাজের চাপ, আর্থিক সমস্যা, সম্পর্কের জটিলতা, বা একাকীত্ব—এই সব কারণে অনেকেই হতাশার সাগরে ডুবে যাচ্ছে। অনেক সময় পরিবার বা বন্ধুদের কাছে এই মনোবেদনাটি প্রকাশ করা কঠিন মনে হয়। এসব পরিস্থিতিতে, প্রযুক্তি মানুষের একাকীত্বের সহায়ক হয়ে উঠেছে। চ্যাটজিপিটি মত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলি ম
ানুষকে “শোনার” প্রতিশ্রুতি দেয়। কেউ যখন হতাশা বা আত্মহত্যার ভাবনা নিয়ে চ্যাট করে, তখন মডেল তাদের হেল্পলাইন বা মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার দিক নির্দেশ করার চেষ্টা করে। কিন্তু এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংকেতও। যখন একজন মানুষ এতটাই বিচলিত হয় যে জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলি মানুষের সঙ্গে ভাগ করতে না পেরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে যায়, তখন বোঝা যায় যে আমাদের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যথেষ্ট যত্ন নেই। পরিবার, স্কুল, কমিউনিটি বা কর্মক্ষেত্রে যথাযথ সমর্থন ও মনোযোগের অভাব মানুষকে হতাশার গভীরে ঠেলে দেয়। চ্যাটজিপিটির মত প্রযুক্তি সহায়ক হতে পারে, কিন্তু এটি মানুষের জীবনের জটিলতা ও মানসিক চাপের মূল কারণ দূর করতে পারে না। তাই এটা একটি সতর্কবার্তা—আমাদের সামাজিক, পারিবারিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে কেউই এতটা বিচলিত না হয় যে সে শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির কাছে আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হয়।
