ইউরোপে রেসিডেন্স কার্ড প্রতারণা: পর্তুগালপ্রবাসী জামিল আহমেদের নেতৃত্বে দালালচক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ
লিসবন, পর্তুগাল: ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি অভিবাসীদের কাছ থেকে রেসিডেন্স কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা একটি দালালচক্রের বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে । চক্রটির বিরুদ্ধে পর্তুগাল পুলিশের কাছে বহু ভুক্তভোগী অভিযোগ তুলেছেন, এবং পুলিশ ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। এই চক্রের অন্যতম সদস্য হিসেবে চিহ্নিত হ
য়েছেন পর্তুগালপ্রবাসী জামিল আহমেদ , পিতা লুৎফুর রহমান। তাঁর বাড়ি সিলেট বিভাগের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারাবই গ্রামে । ইউরোপজুড়ে বাংলাদেশিদের ভিসা জটিলতা কাজে লাগিয়ে প্রতারণা তদন্তে উঠে এসেছে—সুইডেন, নরওয়ে, জার্মানি, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে যেসব বাংলাদেশি ভিসা বা রেসিডেন্স সমস্যায় ভুগছিলেন, তাদের টার্গেট করে বলা হতো যে পর্তুগাল থেকে সহজেই রেসিডেন্স কার্ড বের করে দেওয়া যাবে। প্রমাণিত অভিযোগ থেকে দেখা যায়— ৭০০ থেকে ১,৫০০ ইউরো নিয়ে ভুয়া “কাজ দেখানোর ব্যবসা” বা কন্ট্রাক্ট খুলে দেওয়া হতো পরবর্তীতে জন্মসনদে নাম ভুল, বাবার নাম ভুল, দাদার নাম ভুল—এসব দেখিয়ে ২০০–৩০০–৫০ ইউরো করে বারবার টাকা নেওয়া হতো অধিকাংশ কাগজপত্রই পরে বিভ্রান্তিকর বা সম্পূর্ণ ভুয়া বলে প্রমাণিত হয় ভুক্তভোগীদের ভাষায়— “যতটুকু টেনে নেওয়া যায়, ততটাই নেওয়া হতো। সবকিছুই ছিল টাকা আদায়ের কৌশল।” ইমেইল, পাসওয়ার্ড ও “সেফ আইডি” দখলে নেওয়ার ঘটনা তদন্তে নিশ্চিত যেসব ভুক্তভোগী প্রতারণা বুঝতে পারতেন, তাদের রেসিডেন্স সংক্রান্ত ইমেইল, পাসওয়ার্ড এবং অফিসিয়াল “সেফ আইডি” বদলে ফেলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখত চক্রটি। এর ফলে ভুক্তভোগীরা নিজেদের ফাইল, আবেদন বা সরকারি ডকুমেন্টে প্রবেশ করতে পারতেন না। তদন্তকারীদের ভাষায়— “এটি ছিল ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে রাখার হিসেবি কৌশল।” ট্যাক্সের অর্থ সরকারে না গিয়ে দালালদের পকেটে — তদন্তে নিশ্চিত যেসব অভিবাসী দালালচক্রের কাছ থেকে কন্ট্রাক্ট কিনেছিলেন, তাদের প্রতি মাসে ট্যাক্স জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে— এই টাকা পর্তুগালের সরকারে জমা হয়নি বরং জামিল আহমেদসহ চক্রের সদস্যদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে গেছে এটি এখন কর ফাঁকি, জালিয়াতি ও প্রতারণার গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হাজার হাজার ইউরো ক্ষয়ক্ষতি — নতুন নথি করতে বাড়তি খরচ ভুক্তভোগীদের নথিপত্রে দেখা গেছে— অনেকে ১,০০০ থেকে ৩,০০০ ইউরো পর্যন্ত ক্ষতির শিকার কাগজের নামে ভুল দেখিয়ে আবেদন বাতিল জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা দাবি নথি জিম্মি করে রাখা ভয়ভীতি ও হুমকি অনেকের অভিযোগ— “বছরের পর বছর এই চক্রের কারণে ঝামেলায় পড়েছি। নতুন নথি, জরুরী ফাইল, আইনজীবী—সব মিলিয়ে লোকসান সীমাহীন।” দালালির টাকা দিয়ে সিলেট ও বাংলাদেশে বাড়ি নির্মাণ — নতুন তথ্য প্রকাশ বিদেশে দালালি ও প্রতারণা করে যে হাজার হাজার ইউরো আত্মসাৎ করা হয়েছে, সেই অর্থ বাংলাদেশে বাড়ি, জমি এবং সম্পদ কেনার পেছনে ব্যবহার হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন— চক্রের সদস্যরা ইউরোপে প্রতারণার মাধ্যমে উপার্জিত টাকা দেশে পাচার করেছে সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছে পরিবার ও আত্মীয়–স্বজনের নামে সম্পত্তি বৃদ্ধি করেছে এই অভিযোগও এখন অর্থপাচার আইনের আওতায় বিবেচনা করা হচ্ছে। দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকেও বহু বাংলাদেশির কাছ থেকে ভিসা করে দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়েছে এই দালালচক্র। অভিযোগ রয়েছে—জামিল আহমেদের সহযোগীরা অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ করে “পর্তুগাল থেকে রেসিডেন্স কার্ড করে দেওয়া হবে” এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে 8০০ থেকে 2,০০০ ইউরো পর্যন্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। দুবাইপ্রবাসী অনেক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, টাকা পাঠানোর পর আর কোনো অগ্রগতি দেখানো হয়নি; বরং হুমকি, গালিগালাজ এবং টালবাহানা করে আরও টাকা দাবি করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত তথ্যও এখন তদন্তের অংশ হয়েছে। কঠোর অবস্থানে পুলিশ — ভুক্তভোগীদের প্রমাণ সংগ্রহ বর্তমানে— রসিদ ব্যাংক লেনদেন স্ক্রিনশট ভয়েস নোট চ্যাট লগ —সবকিছুই পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এগুলোই মামলার প্রধান প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। দালালির টাকায় সিলেটে বাড়ি নির্মাণ — নতুন অভিযোগ তদন্তে যোগ হয়েছে নতুন একটি অভিযোগ— বিদেশে প্রতারণা করে উপার্জিত হাজার হাজার ইউরো বাংলাদেশে পাচার করে সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায়: বাড়ি নির্মাণ জমি কেনা পরিবারের নামে সম্পদ বৃদ্ধি এই অভিযোগও এখন অর্থপাচার আইনের আওতায় বিবেচনা করা হচ্ছে। সতর্কবার্তা: প্রবাসী বাংলাদেশিদের সচেতনতা জরুরি বাংলাদেশি কমিউনিটির যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে— দালালচক্র সাধারণত পর্তুগিজ মোবাইল নম্বর( +351 920 158 933 ) এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ করে। তারা রেসিডেন্স কার্ড করে দেওয়ার নাম করে টাকা দাবি করে থাকে। অপরিচিত বা সন্দেহজনক নম্বর থেকে কারো অর্থের দাবি এলে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক হতে বলা হয়েছে। কোনওভাবেই টাকা পাঠানো, ডকুমেন্ট দেওয়া, বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার অনুরোধ —মেনে না চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্দেহজনক যোগাযোগ পেলে প্রবাসীদের অনুরোধ— স্থানীয় পুলিশ, প্রবাসী কমিউনিটি সংগঠন, অথবা সরাসরি SEF/অভিবাসন অফিসে পর্তুগাল ও ইউরোপজুড়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে পরিচয় উন্মোচনের প্রচারণা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ইউরোপজুড়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে প্রবাসীরা সামাজিকমাধ্যমে— চক্রের সদস্যদের পরিচয় প্রকাশ প্রতারণার ধরন ব্যাখ্যা ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা শেয়ার নতুন অভিবাসীদের সতর্ক করা —এসব প্রচারণা জোরদার করছেন। অনেকের ভাষায়— “যতদিন না পুরো চক্র ধরা পড়ছে, ততদিন আমরা কমিউনিটিকে সতর্ক করে যাব।” এই তদন্ত পুরোপুরি শেষ হলে চক্রের সদস্যরা গ্রেপ্তার ও বিচার–প্রক্রিয়ায় মুখোমুখি হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রবাসীরা বিশ্বাস করছেন— এই ঘটনাটি ইউরোপে রেসিডেন্স কার্ড–ভিত্তিক প্রতারণা বন্ধে বড় ভূমিকা রাখবে এবং নতুন কেউ আর দালালদের ফাঁদে পড়বে না।
