অনুসন্ধানী রাজনগরে দেড় কোটি টাকার দুর্নীতি — রহস্যের জালে অনুপসহ একটি প্রভাবশালী চক্র
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের ঘটনার গভীরে যেতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নথি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যায়—এই দুর্নীতির সঙ্গে অনুপ দাশসহ কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকতে পারেন। অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ ও গোপন লেনদেনের চিত্র রাজনগর
ও বড়লেখা উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা রহস্যজনকভাবে ‘অদৃশ্য’ হয়ে যায়। অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়— আত্মসাৎ হওয়া টাকার ১ কোটি ২ লাখ টাকা ইতোমধ্যেই ফেরত দেওয়া হয়েছে। অনুপ দাশের পরিবারিক সূত্রে দাবি—এই ফেরত দেওয়া টাকাই আত্মসাৎ হওয়া অর্থের বড় অংশ। বড়লেখা উপজেলা পরিষদ টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে রাজনগর উপজেলা পরিষদকে ঘিরে— তারা এখনো পর্যন্ত কোনো টাকা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেনি। রাজনগরের ৮০ লাখ টাকার গন্তব্য কোথায়? ব্যাংকের স্টেটমেন্টে দেখা যায়, লেনদেনের কয়েকটি ধাপে টাকা রাজনগরের বরাদ্দ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু: অর্থ কোন হিসাবে গেছে? কারা উত্তোলনে অনুমোদন দিয়েছে? উত্তোলনকারী ব্যক্তি বা অ্যাকাউন্ট কার? এসব প্রশ্নের উত্তর রাজনগর প্রশাসন থেকে পাওয়া যায়নি। আর এই অস্বচ্ছতাই রহস্যকে আরও ঘনীভূত করছে। জড়িত থাকার সন্দেহে উঠে আসছে যে নামগুলো অনুসন্ধানে জানা যায়, অনুপ দাশ ছাড়াও আরও কয়েকজন কর্মচারী, প্রযুক্তি সহকারী এবং হিসাব–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম ঘুরে ফিরে আসছে। এসব ব্যক্তির নিয়মিত দায়িত্ব, স্বাক্ষর এবং চেক ইস্যুসংক্রান্ত ক্ষমতা বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে—ঘটনাটি একক ব্যক্তির কাজ নয়, বরং একটি সাংগঠনিক দুর্নীতির নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল। স্থানীয় জনগণের ক্ষোভ ও প্রশাসনের নীরবতা রাজনগর এবং বড়লেখার সাধারণ মানুষ এই অর্থ ‘গায়েব’ হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে জানতে চাইছে— “৮০ লাখ টাকা গেল কোথায়?” এমনকি অনেকেই দাবি করছেন, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী? এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসা কঠিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন— ব্যাংক স্টেটমেন্টের ফরেনসিক অডিট সংশ্লিষ্টদের সম্পদের উৎস তদন্ত চেক ইস্যু ও অনুমোদন যাচাই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ —ই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। রাজনগরের হারিয়ে যাওয়া ৮০ লাখ টাকার রহস্য পুরো জেলার মানুষের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই জালিয়াতি শুধু অর্থ নয়—প্রশাসনিক সততা ও জবাবদিহিতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে…
