ট্রিলিয়ন-ডলারের প্রতিশ্রুতি: আগের পথের পুনরাবৃত্তি?
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতি গঠনের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণীয়। কিন্তু সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন—এই প্রতিশ্রুতিগুলো কি সত্যিই নতুন, নাকি পুরোনো রাজনৈতিক কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি? রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা স্মরণ করিয়ে দেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকাকালে
“ডিজিটাল বাংলাদেশ”-এর মতো বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই সময় সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, উন্নয়নের নাম করে ব্যাপক দুর্নীতি, তহবিল অপচয় এবং প্রকল্পভিত্তিক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন মহল দাবি করে, বড় বড় প্রকল্পের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে—যদিও এসব অভিযোগ অনেক ক্ষেত্রেই তদন্তাধীন এবং আইনগতভাবে প্রমাণিত নয়। এখন সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন—যদি একই ধরনের রাজনৈতিক ভাষণ ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি আবারও সামনে আসে, তবে কি তারেক রহমান বাস্তবে ভিন্ন কোনো পথ দেখাতে পারবেন? নাকি এটাও হবে কেবল আরেকটি আকর্ষণীয় স্লোগান, যার ভেতরে থাকবে পুরোনো রাজনৈতিক ধারা? বহু বিশ্লেষক মনে করেন, শুধু বড় প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না—কীভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা হবে, কীভাবে টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে এবং কীভাবে জনগণের সম্পদ অপচয় রোধ করা হবে—এসব প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে ট্রিলিয়ন-ডলারের সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবসম্মত। জনগণের মধ্যে এখন মূল প্রশ্ন একটাই: নতুন স্বপ্ন কি সত্যিই নতুন, নাকি আগের ব্যর্থতারই সাজানো সংস্করণ?
